পরিবারের আইনজীবী হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ এবং আধাসেনার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, সাহায্যের জন্য ডাকা হলেও কেউ সাড়া দেননি বলে অভিযোগ। তিনি আদালতকে অনুরোধ করেছেন, ঘটনার সময়ে কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কার গাফিলতিতে এমন হল, তার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়ার জন্য।

আরজি কর লিফট দুর্ঘটনা
শেষ আপডেট: 21 March 2026 22:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় (RG Kar Lift Tragedy) অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে প্রশ্ন। বেসমেন্ট (Basement) থেকে কীভাবে লিফট আবার চালু হল, কে বা কারা করল এই কাজ, তা নিয়ে ধন্দে পরিবার। অভিযোগ লিফটম্যানদের (Liftman) দিকেই। শনিবার পাঁচ অভিযুক্তকে ছ'দিনের পুলিশই হেফাজতের নির্দেশ দেয় শিয়ালদহ আদালত।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন মৃতের স্ত্রী। তাঁদের ছেলে বয়সে অনেকটাই ছোট। অভিযোগ, লিফট বেসমেন্টে আটকে যাওয়ার পর তাঁর স্বামী নেমে আসার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ই লিফ্ট হঠাৎ উপরের দিকে উঠে যেতে শুরু করে এবং লিফ্ট এবং দেওয়ালের মাঝখানে চাপা পড়েই মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
তবে এখানেই প্রশ্ন তুলছেন মৃতের পরিবার। কীভাবে লিফটটি চালু হল? নিহতের পরিবারের আইনজীবীর দাবি, বেসমেন্টে আটকে থাকার সময় একতলায় থাকা আত্মীয়রা সাহায্য চাইছিলেন। তখন তিন জন এসে নিজেদের লিফ্টম্যান বলে পরিচয় দেন। তাঁদের মধ্যে একজন উপরে উঠে যান। সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনিই হয়তো উপরের কোনও তলা থেকে লিফ্টটি ‘অন’ করেছিলেন, নীচের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। ফলে লিফ্টটি চলতে শুরু করে আর ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
এছাড়া পরিবার এবং আইনজীবীর দাবি, ওই লিফ্টে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। তাঁদের এক আত্মীয় আগেই সেই লিফ্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং তিনিও সমস্যার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। নিহতের স্ত্রীও জানান, লিফ্ট ওঠানামা করছিল, পরে বেসমেন্টে এসে দাঁড়ায়। দরজা আংশিক খুললেও সামনে থাকা গ্রিল গেটটি তালাবদ্ধ ছিল, খুলতে পারেননি তাঁরা।
পরিবারের আইনজীবী হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ এবং আধাসেনার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, সাহায্যের জন্য ডাকা হলেও কেউ সাড়া দেননি বলে অভিযোগ। তিনি আদালতকে অনুরোধ করেছেন, ঘটনার সময়ে কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কার গাফিলতিতে এমন হল, তার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়ার জন্য।
সরকারি আইনজীবীও ধৃত পাঁচ জনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, লিফ্টের সামনে দায়িত্বে থাকার কথা লিফ্টম্যানদের। অথচ ধৃতেরা দাঁড়িয়ে গান শুনছিলেন এবং তাঁদের অবহেলাই লিফ্টকে 'মানুষ মারার যন্ত্রে' পরিণত করেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ধৃতদের গ্রেফতার করেছে: লিফ্টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ এবং নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান, শুভদীপ দাস। শনিবার ফরেনসিকের বিশেষজ্ঞ দল লিফ্ট থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। কোন বোতাম টিপে লিফ্ট উঠেছিল, কোন তলা থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল- সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার ঘটনাস্থলে যাবেন জীববিদ্যা বিভাগের ফরেনসিক অফিসাররাও।