মৃতের শরীরের পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল। হাত-পা, পাঁজরের পাশাপাশি হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও প্লীহা ফেটে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যা থেকে অনুমান, দুর্ঘটনার সময় প্রবল ধাক্কা লেগেছিল।

মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 March 2026 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় (RG Kar Hospital Lift Death Case) মৃত্যুর তদন্তে গতি আনতে মাঠে নেমেছে রাজ্যের ফরেন্সিক দল। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। লিফট কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ কী - এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফরেন্সিক রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন লিফট অপারেটর এবং দুই নিরাপত্তারক্ষী। তদন্তকারীদের দাবি, দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার পরই টালা থানা তাঁদের গ্রেফতার করে।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন দমদমের বাসিন্দা ৪০ বছরের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। চার বছরের ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন তিনি। অভিযোগ, ভোরবেলায় লিফটে ওঠার পরই আচমকা সেটি অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃতের শরীরের পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল। হাত-পা, পাঁজরের পাশাপাশি হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও প্লীহা ফেটে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যা থেকে অনুমান, দুর্ঘটনার সময় প্রবল ধাক্কা লেগেছিল।
পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় লিফটে কোনও কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। লিফটের দরজা একসময় খুললেও বাইরে কোলাপসিবল গেট থাকায় বেরোনো সম্ভব হয়নি। সেই সময়ই লিফট আচমকা উপরের দিকে উঠতে শুরু করলে লিফট ও দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়েন অরূপ।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কোন তলা থেকে লিফটে ওঠা হয়েছিল, কোন বোতাম চাপা হয়েছিল এবং লিফটের গতিবিধি ঠিক কী ছিল। আগে থেকেই কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে তা কেন চিহ্নিত করা হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠছে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকাজে গাফিলতি হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষের সামনে বারবার অনুরোধ করা হলেও লিফটের বাইরের গ্রিল ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, হাসপাতালের ৩২টি লিফটেই এবার থেকে কর্মী ছাড়া কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।