এটিকে দুর্ঘটনা বলতে নারাজ ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছে করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ খুনের ঘটনা, দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 20 March 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ফের সংবাদ শিরোনামে চলে এসেছে আরজি কর হাসপাতাল (RG Kar Hospital Death)। এবার কোনও ধর্ষণ-খুনের ঘটনা নয়, লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। যদিও এটিকে দুর্ঘটনা বলতে নারাজ ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (BJP Candidate Suvendu Adhikari)। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছে করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ খুনের ঘটনা, দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
ছেলের হাত ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আরজি কর হাসপাতালে এসেছিলেন দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০)। তবে ট্রমা কেয়ারের লিফটে ওঠার পরই ছেলে স্ত্রী-সহ আটকে পড়েন (RG Kar Trauma Care)। এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর (RG Kar lift death)। শুভেন্দু দাবি করেছেন, ওই লিফটের কাজ চলছিল। তা সত্ত্বেও তাঁদের ওখানে ওঠানো হয়েছে। এটা খুনের ঘটনা।
শুক্রবার মহিষাদলে প্রচার করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে স্বাভাবিকভাবে আরজি কর প্রসঙ্গ ওঠে। প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি প্রার্থী বলেন, ''ইচ্ছে করে মেরে দিয়েছে। খুনের মামলা দায়ের হওয়া উচিত। প্রত্যক্ষ খুনের জন্য দায়ী আরজি করের সুপার। আর পরোক্ষভাবে দায় স্বাস্থ্য দফতর, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।'' শুভেন্দু দাবি করেছেন যে, তাঁর কাছে সরকারি নথিও রয়েছে যেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে, লিফটে কাজ হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে সেখানে অত লোক ছিল না। ফলে ওখানেই আটকে পড়েন তিনি। অনেকক্ষণ ধরে সাহায্যের জন্য ডাকাডাকি করতে থাকে পরিবার, কিন্তু কোনও ফল মেলেনি। এক ঘণ্টা মতো সেখানে আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি, মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবারের পাশাপাশি বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আরও অনেক রোগীর পরিজনরা। তাঁদের সবার একই বক্তব্য, ট্রমা কেয়ারের মতো জরুরি জায়গায় এরকম ঘটল কীভাবে? তাছাড়া ওই বিভাগের লিফটে কোনও লিফটম্যান থাকে না, সেই নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ''গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। লিফট যখন এসে দাঁড়ায়, তখনই দরজা খোলে। তাহলে সেটা প্যানেলে গেল কীকরে, এটা আমাদের কাছেও একটা বড় প্রশ্ন। বিস্তারিত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা। অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।''
জানা গিয়েছিল, দুর্ঘটনার পর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে দেখা গিয়েছিল। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কী বলছে, সেই দিকেও নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরজি কর হাসপাতালের সুপার।