শহর হোক বা জেলা, সর্বত্র ভেজা রাস্তা আর ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে দিন শুরু করেছেন মানুষ। আজও আকাশ মেঘলা, দিনভর বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 21 March 2026 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাপুটে গরম নামার আগেই খেলা দেখাচ্ছে আবহাওয়া (West Bengal Weather Update)। শুক্রবার রাতভর টানা বৃষ্টিতে ভিজে গেছে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, শনিবার সকালেও তার রেশ স্পষ্ট (West Bengal Weather)। শহর হোক বা জেলা, সর্বত্র ভেজা রাস্তা আর ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে দিন শুরু করেছেন মানুষ। আজও আকাশ মেঘলা, দিনভর বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
শুধু বৃষ্টি নয়, উত্তরবঙ্গে দেখা দিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সান্দাকফুতে (Sandakphu) শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত (North Bengal Snowfall) । প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তাঘাট। এই সময়ে এমন তুষারপাতকে ‘অস্বাভাবিক’ বলেই মনে করছেন আবহবিদরা। এর জেরে শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন সান্দাকফু ও আশপাশের এলাকায়।
পাশাপাশি উত্তর ও পূর্ব সিকিমেও তুষারপাত (Sikkim Snowfall) অব্যাহত। লাচেন থেকে থাঙ্গু, থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমার - একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্টের পথও অচল। যদিও চুংথাং থেকে লাচুং ও মঙ্গনের কিছু রাস্তা খোলা রয়েছে, সেখানে হালকা যান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে রাজ্যজুড়ে এই আকস্মিক পরিবর্তন। বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে, যার ফলে কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে শিলাবৃষ্টির সতর্কতাও জারি হয়েছে।
মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। রবিবারও ঝড়-বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস।
আবহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে, যা এই বৃষ্টির মূল কারণ।
এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের আজ সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গরমের মুখে এমন আবহাওয়ার পালাবদল রাজ্যজুড়ে একদিকে যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই তৈরি করছে নতুন উদ্বেগও।