Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেইWeather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি'ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না', আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকেরভোটের মুখে ইডির বড় পদক্ষেপ! কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলমহাকাশে হবে ক্যানসারের চিকিৎসা! ল্যাবের সরঞ্জাম নিয়ে পাড়ি দিল নাসার ‘সিগনাস এক্সএল’সঞ্জু-রোহিতদের পেছনে ফেলে শীর্ষে অভিষেক! রেকর্ড গড়েও কেন মন খারাপ হায়দ্রাবাদ শিবিরের?আইপিএল ২০২৬-এর সূচিতে হঠাৎ বদল! নির্বাচনের কারণে এই ম্যাচের ভেন্যু বদলে দিল বিসিসিআইWest Bengal Election 2026 | হার-জিত ভাবিনা, তামান্না তো ফিরবেনা!

Child Obesity: শিশু স্থূলতায় বিশ্বে দ্বিতীয় ভারত, ২০৪০-এ সংখ্যাটা ছুঁতে পারে ৫ কোটির ঘর

বর্তমানে ভারতে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ শিশু উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (BMI) নিয়ে জীবনযাপন করছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ শিশু স্থূলতায় আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওবেসিটি এখন আর শুধু বড়দের রোগ নয়; বরং অনেক অল্প বয়সেই শিশুরা এর কবলে পড়ছে। ২০১০ সালের পর থেকে বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে এই সমস্যা বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অপুষ্ট বা কম ওজনের শিশুদের চেয়ে স্থূলকায় শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি।  
 

Child Obesity: শিশু স্থূলতায় বিশ্বে দ্বিতীয় ভারত, ২০৪০-এ সংখ্যাটা ছুঁতে পারে ৫ কোটির ঘর

বাড়ছে চাইল্ড ওবেসিটি, সাবধান

জিনিয়া সরকার

শেষ আপডেট: 21 March 2026 13:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  এদেশের শিশু স্বাস্থ্য ক্রমশ জটিল অবস্থায় যাচ্ছে। কারণ বিশ্বজুড়ে স্থূলতা বা ওবেসিটি (obesity) নিয়ে কাজ করা সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি অ্যাটলাস World Obesity Atlas 2026)"- এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রিপোর্ট বলছে, অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূল শিশুদের সংখ্যার নিরিখে ভারত এখন বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে। এই সংখ্যায় ভারতের অবস্থান চীনের পরেই। ২০২৫ সাল অবধি ৫–৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত ১ কোটি ৪৯.২১ লক্ষ (14.921 মিলিয়ন) ও ১০–১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আক্রান্ত ২ কোটি ৬৪.০২ লক্ষ (26.402 মিলিয়ন)। পরিস্থিতি যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু ও কিশোর এই সমস্যার শিকার হতে পারে।

দেশজুড়ে অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে

বর্তমানে ভারতে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ শিশু উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (BMI) নিয়ে জীবনযাপন করছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ শিশু স্থূলতায় আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওবেসিটি এখন আর শুধু বড়দের রোগ নয়; বরং অনেক অল্প বয়সেই শিশুরা এর কবলে পড়ছে। ২০১০ সালের পর থেকে বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে এই সমস্যা বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অপুষ্ট বা কম ওজনের শিশুদের চেয়ে স্থূলকায় শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি।  

কেন বাড়ছে মেদ? চিকিৎসকরা কী বলছেন?

বিশেষজ্ঞরা মূলত চারটি কারণকেই চিহ্নিত করেছেন:

১. শরীরচর্চার অভাব: শিশুরা এখন অনেক বেশি ঘরবন্দি। খেলাধুলার বদলে তারা স্মার্টফোন বা টিভির স্ক্রিনে বেশি সময় কাটাচ্ছে।
২. খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত নুন, চিনি এবং ক্যালরিযুক্ত জাঙ্ক ফুড বা আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারের প্রতি আসক্তি।
৩. জীবনযাপন: অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এবং মানসিক চাপ।
৪. বংশগতি: কিছু ক্ষেত্রে জিনগত কারণেও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে।

World Obesity Atlas 2026 - India (1)

বিপদ শুধু ওজনে নয়, লুকিয়ে আছে মারণ রোগ

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্থূলতার হাত ধরে শরীরে বাসা বাঁধছে একাধিক ক্রনিক রোগ:

  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ডায়াবেটিস: স্থূলতায় আক্রান্ত প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ শিশুর শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না, যা ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
  • উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ: ২০-২৫ শতাংশ শিশুর মধ্যে এখনই উচ্চ রক্তচাপ দেখা যাচ্ছে। কম বয়সেই হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
  • ফ্যাটি লিভার ও ট্রাইগ্লিসারাইড: রক্তে চর্বি বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাচ্ছে (কখনও ১০০০ মিগ্রা/ডেসি-র বেশি)। এর ফলে লিভারে চর্বি জমা থেকে শুরু করে 'অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস'-এর মতো প্রাণঘাতী সমস্যা হতে পারে যা শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল করে দিতে পারে।
  • অন্যান্য সমস্যা: স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমানোর সময় শ্বাসকষ্ট) এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে শিশুদের মধ্যে।

তাহলে সুস্থ থাকতে কী করণীয়?

  • বাইরের খাবার বর্জন: বাড়িতে প্রসেসড ফুড, প্যাকেটজাত চিপস বা কোল্ড ড্রিঙ্কস মজুত করা বন্ধ করতে হবে। ট্রান্স ফ্যাট ও বেশি তেলে ভাজা খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
  • প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস: ডায়েটে রাখতে হবে গোটা ফল, সবজি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার।
  • শারীরিক সক্রিয়তা: শিশুদের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা খেলাধুলা বা শরীরচর্চায় উৎসাহিত করতে হবে।
  • স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ: টেলিভিশন বা মোবাইলের সময় কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।
  • ব্রেস্ট ফিডিং: উপযুক্ত সময় পর্যন্ত শিশুকে ব্রেস্ট ফিডিং করাতে হবে।  

বাবা-মা সচেতন হন: সুস্থ থাকার সিদ্ধান্তটি একা শিশুর নয়, বরং গোটা পরিবারের হওয়া উচিত। বড়রা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে শিশুরাও তা অনুসরণ করবে।

তবে বর্তমানে নগরায়ণ এবং বিশ্বায়নের যুগে প্যাকেটজাত খাবারের সহজলভ্যতা শিশুদের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজাচ্ছে। এখনই যদি রাশ টানা না যায়, তবে আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়বে। 'আর্লি ইন্টারভেনশন' বা দ্রুত সতর্কতাই হতে পারে এই রোগের সেরা প্রতিকার।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।

Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.


```