শিশুদেরও ডায়াবেটিস হতে পারে। কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন জেনে নিন।

শেষ আপডেট: 17 March 2026 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিসের (Diabetes) নির্দিষ্ট কোনও বয়স নেই। ছোট থেকে বড় যে কোনও বয়সেই হানা দিতে পারে মধুমেহ। এমনকী ৬ মাসের বাচ্চাও ভুগতে পারে ডায়াবেটিসে। তবে ৬ মাসের ছোট বাচ্চাদের এই সমস্যা সেরে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বয়স যখনই ৬ মাসের বেশি হয়ে যায়, তখনই তা চিরস্থায়ী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকাল ছোটদের মধ্যে ডায়াবেটিস (Child Diabetes) বাড়ছে এবং তা ধরা পড়ছে অনেকটাই দেরিতে। কারণ অভিভাবকদের মধ্যে তো বটেই, বহু ডাক্তারের মধ্যেও এ নিয়ে সচেতনতা অনেক কম। তাই বাচ্চারা প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চিকিৎসকেরা বাচ্চাদের ডায়াবেটিস বাদে বাকি পরীক্ষা করিয়েছেন। কারণ ওই বয়সে যে ডায়াবেটিস হতে পারে, সেটাই ভাবতে পারেন না অনেকে। এমনও দেখা গেছে সদ্যোজাত শিশুরও রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেশি।
ইনসুলিন রেজিসটেন্সের কারণে যখন শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় তখন শিশু টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। আর টাইপ ২ ডায়াবেটিস খুবই মারাত্মক হতে পারে। শিশুর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এক্ষেত্রে জেনেটিক কারণ যেমন রয়েছে, তেমনি ভাইরাস ইনফেকশনের কারণও হতে পারে। প্যংক্রিয়াসের কোনও সেল নষ্ট হেয় গেলে, ওবেসিটি বা স্থূলত্ব, সাইফস্টাইলে অনিয়ম ডায়াবেটিসের (Diabetes) কারণ হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে বেশি চিনি ও প্রসেসড খাবার খাওয়ার অভ্যাস এবং দীর্ঘ সময় মোবাইল বা টিভির সামনে বসে থাকার কারণে সমস্যা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখলে বাবা-মায়েদের সতর্ক হওয়া উচিত। যেমন—
বারবার প্রস্রাব পাওয়া
অস্বাভাবিক তৃষ্ণা বা বারবার জল খেতে চাওয়া
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
সব সময় ক্লান্ত লাগা
খিদে বেড়ে যাওয়া
চোখ ঝাপসা দেখা
অনেক ক্ষেত্রে শিশুর শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে না পারলে বা ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে এই সমস্যা তৈরি হয়। তখন শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে Type 2 Diabetes-এর ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে, যদিও শিশুদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম।
যদি শিশুর মধ্যে উপরের লক্ষণগুলির একাধিক দেখা যায়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই ডায়াবেটিস ধরা সম্ভব। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুকে সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই দুইই শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।