নবজাতকের ডায়াবেটিস বিরল হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। স্তন্যপান জিনগত সমস্যা দূর করতে পারে না, কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুর শরীরকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 23 February 2026 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিস (Diabetes) বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাপ্তবয়স্ক, মধ্যবয়সী কোনও মানুষ আবার কখনও বা অনিয়মিত এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের (lifestyle related problems) ছবি। তাই যখন কোনও সদ্যোজাত শিশুর শরীরে ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, স্বাভাবিকভাবেই পরিবারে নেমে আসে প্রবল ধাক্কা। এই বিরল শারীরিক পরিস্থিতিকে বলা হয় 'নিওনেটাল ডায়াবেটিস' (neonatal diabetes) - যা সাধারণত জন্মের প্রথম ছ’মাসের মধ্যেই দেখা দেয়।
রিডায়াল ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গগনদীপ সিং জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় প্রতি এক লক্ষ থেকে চার লক্ষ শিশুর মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যায় (rare genetic diabetes babies)। এই অবস্থায় শিশুর প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, বা একেবারেই তৈরি করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায় (glucose control in newborns), এমন এক সময়ে যখন শরীর সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও দুর্বল।
এটি কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াবেটিস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা
নবজাতকের ডায়াবেটিস প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসের (type 2 diabetes) মতো নয়। এর প্রধান কারণ জিনগত পরিবর্তন, যে জিনগুলি ইনসুলিন তৈরি বা নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলির ত্রুটি থেকে এই সমস্যা হয়।
এই রোগের দুটি ধরন রয়েছে (types of neonatal diabetes) -
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গর্ভাবস্থায় মায়ের খাবার, জীবনযাপন বা কোনও অভ্যাসের জন্য এই রোগ হয় না। তাই এই রোগ ধরা পড়লে বাবা-মায়ের নিজেদের দোষারোপ করার কোনও কারণ নেই।
লক্ষণ বোঝা কঠিন কেন (newborn diabetes symptoms)?
নবজাতকের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ বেশ কিছু উপসর্গ আর পাঁচটা যেকোনও সাধারণ সমস্যার মতোই, ফলে তা অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়।
সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলি হল -
এই উপসর্গগুলি অন্য অনেক সাধারণ সমস্যার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। অনেক সময় মেটাবলিজমের গুরুতর সমস্যা শুরু না হওয়া পর্যন্ত রোগ শনাক্তই হয় না। কোনও নবজাতকের রক্তে শর্করা বারবার বেশি থাকলে শুধু সাধারণ চিকিৎসা নয় - জেনেটিক পরীক্ষা করা জরুরি।
কেন স্তন্যপান এত গুরুত্বপূর্ণ (neonatal diabetes breastfeeding benefits)?
একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার, মায়ের দুধ 'নিওনেটাল ডায়াবেটিসে'র চিকিৎসা নয়। কিন্তু এটি এমন একটি সুরক্ষামূলক সহায়তা দেয়, যার গুরুত্ব অনেক সময় যথেষ্টভাবে আলোচিত হয় না।
১️) পুষ্টির স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে
মায়ের দুধে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও অন্যান্য পুষ্টির অনুপাত একেবারে নির্ভুলভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী সারাদিনে পুষ্টির এই অনুপাত বদলাতে পারে। এতে রক্তে শর্করার চাপ স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে।
ফর্মুলা দুধে এই প্রয়োজনীয় এবং পরিবর্তনশীল সামঞ্জস্য থাকে না, ফলে শিশুর প্রয়োজন এবং পুষ্টি সরবরাহের মধ্যে কোথাও একটা ঘাটতি থেকেই যায়।
২️) শিশুর অন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষা ও রোগপ্রতিরোধ বাড়ে
মায়ের দুধে এমন বহু প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে যা শিশুর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম গঠনে সাহায্য করে। সুস্থ অন্ত্র ভবিষ্যতের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে যেসব শিশুর ভবিষ্যতে আবার বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩) অল্প করে প্রয়োজনে বারবার খাওয়ানো সম্ভব
স্তন্যপান করা শিশুরা সাধারণত অল্প অল্প করে বারবার খায়। ইনসুলিনের সমস্যা থাকা শিশুর জন্য এটি সুবিধাজনক, কারণ অল্প পরিমাণে শর্করা শরীরের পক্ষে সামলানো সহজ।
এই ক্ষেত্রে মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
কেন বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?
নবজাতকের ডায়াবেটিস বিরল হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। স্তন্যপান জিনগত সমস্যা দূর করতে পারে না, কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুর শরীরকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয় -
যখন জিনগত কারণেই শিশুর প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় ঠিকভাবে কাজ করছে না, তখন শরীরের অন্য প্রতিটি প্রাকৃতিক সহায়তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।