হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরজি করের অভিশপ্ত লিফট
শেষ আপডেট: 23 March 2026 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালের লিফটে (RG Kar Hospital Lift case) আটকে মৃত্যুর ঘটনায় এবার কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল। হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি আরজি কর হাসপাতালের লিফটে আটকে এক রোগীর পরিজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, সরকারি হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত এবং এর নেপথ্যে কাদের গাফিলতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার সময় লিফটটি কেন বিকল ছিল এবং কেন দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো সম্ভব হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে পিটিশনে।
তবে এই মামলার সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হল কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা। আরজি করের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানরা ওই সময় ঠিক কী করছিলেন, কেন তাঁদের নজরদারি এড়িয়ে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় যেখানে ২৪ ঘণ্টা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকে, সেখানে এই ধরনের দুর্ঘটনা কীভাবে সম্ভব— তা আদালতকে খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন মামলাকারী।
লিফট দুর্ঘটনায় (RG Kar Lift Tragedy) যাঁর প্রাণ গেছে, তিনি অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যেমন, বেসমেন্ট (Basement) থেকে কীভাবে লিফট আবার চালু হল, কে বা কারা করল এই কাজ, তা নিয়ে ধন্দে পরিবার। অভিযোগ লিফটম্যানদের (Liftman) দিকেই। শনিবার পাঁচ অভিযুক্তকে ছ'দিনের পুলিশই হেফাজতের নির্দেশ দেয় শিয়ালদহ আদালত।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন মৃতের স্ত্রী। তাঁদের ছেলে বয়সে অনেকটাই ছোট। অভিযোগ, লিফট বেসমেন্টে আটকে যাওয়ার পর তাঁর স্বামী নেমে আসার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ই লিফ্ট হঠাৎ উপরের দিকে উঠে যেতে শুরু করে এবং লিফ্ট এবং দেওয়ালের মাঝখানে চাপা পড়েই মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপের।
এছাড়া পরিবার এবং আইনজীবীর দাবি, ওই লিফ্টে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। তাঁদের এক আত্মীয় আগেই সেই লিফ্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং তিনিও সমস্যার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। নিহতের স্ত্রীও জানান, লিফ্ট ওঠানামা করছিল, পরে বেসমেন্টে এসে দাঁড়ায়। দরজা আংশিক খুললেও সামনে থাকা গ্রিল গেটটি তালাবদ্ধ ছিল, খুলতে পারেননি তাঁরা।