আরজি কর (RG Kar) হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষ (Sandip Ghosh)-সহ ৫ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)।

সন্দীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 23 February 2026 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ (Sandip Ghosh) ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য সোমবারের দুপুর দুঃসংবাদ বয়ে নিয়ে এল। দীর্ঘ শুনানির পর কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) সন্দীপ-সহ পাঁচ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তের এই পর্যায়ে সন্দীপ ঘোষ, আফসার আলি খান, বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা এবং আশিস পাণ্ডেকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়।
টেন্ডার ও দুর্নীতির জাল
আরজি করের ডেপুটি সুপারের অভিযোগ ছিল, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের অন্দরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির রাজত্ব চলেছিল। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনার নামে টেন্ডারে ব্যাপক কারচুপি করেছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ’ ব্যবসায়ী ও বৃত্তের মানুষদের বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই চক্রের অন্যতম শরিক হিসেবেই নাম জড়ায় বিপ্লব, সুমন ও আফসারদের।
সিবিআই-এর চার্জশিট ও গ্রেফতারি
আর্থিক দুর্নীতির এই মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর প্রথম গ্রেফতার হন সন্দীপ ঘোষ। দীর্ঘ সিবিআই জেরার পর একে একে গ্রেফতার করা হয় আফসার আলি, বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরাকে। সবশেষে ধরা পড়েন আরজি করের হাউস স্টাফ আশিস পাণ্ডে। তদন্তকারী সংস্থা গত ২৯ নভেম্বর আলিপুর আদালতে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা দিয়েছে। সিবিআই-এর দাবি, এই পাঁচজন মিলে হাসপাতালের সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
জোড়া মামলা ও সন্দীপের স্থিতি
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করের সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে জনরোষ তৈরি হয়। ওই ঘটনায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ও টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সেই বছর ডিসেম্বর মাসে ধর্ষণ-খুনের মামলায় জামিন পেলেও রেহাই পাননি সন্দীপ। কারণ, দুর্নীতির মামলায় তিনি তখনও জেলবন্দি ছিলেন।
এদিন হাইকোর্টের রায়ের পর এটা স্পষ্ট যে, ধর্ষণ-খুনের মামলায় জামিন মিললেও দুর্নীতির ফাঁস থেকে সন্দীপের আপাতত মুক্তি নেই। আলিপুর জেলই এখন সন্দীপের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে রইল।