দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার বড় বিমানবন্দরগুলি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করে। ইউরোপ বা আমেরিকায় যেতে ভারতের বহু যাত্রীকে এই রুট ব্যবহার করতে হয়। কলকাতা থেকে নিয়মিত সরাসরি উড়ান যায় এই কেন্দ্রগুলিতে। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতায় সেই পরিষেবায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 March 2026 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা - ইজরায়েল ও ইরানের (US Israel Iran Conflict) সংঘাতের সরাসরি অভিঘাত পড়েছে আকাশপথে। টানা তৃতীয় দিনে সামরিক উত্তেজনা বাড়তেই যাত্রী দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। একাধিক দেশ নিজেদের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে, কোথাও আবার আরব দুনিয়ার গন্তব্যে বিমান চলাচল স্থগিত। সেই প্রভাব স্পষ্ট কলকাতা বিমানবন্দরেও (Kolkata Airport)। সোমবার দমদম থেকে পশ্চিম এশিয়াগামী মোট ২০টি উড়ান বাতিল (Flight Cancel From Kolkata Airport) হয়েছে।
বাতিল পরিষেবার তালিকায় রয়েছে পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। আসা–যাওয়া মিলিয়ে এমিরেটস (Emirates)-এর আটটি, কাতার এয়ারওয়েস (Qatar Airways)-এর চারটি, তিহাদ এয়ারওয়েস (Etihad Airways)-এর চারটি, এয়ার আরবিয়া (Air Arabia)-এর দু’টি এবং ফ্লাই দুবাই (Flydubai)-এর দু’টি বিমান। ফলে দুবাই, দোহা ও আবু ধাবিগামী যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন।
দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার বড় বিমানবন্দরগুলি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করে। ইউরোপ বা আমেরিকায় যেতে ভারতের বহু যাত্রীকে এই রুট ব্যবহার করতে হয়। কলকাতা থেকে নিয়মিত সরাসরি উড়ান যায় এই কেন্দ্রগুলিতে। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতায় সেই পরিষেবায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
শুধু কলকাতাই নয়, দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই বিমানবন্দর থেকেও একাধিক উড়ান বাতিল হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক টানাপড়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুবাই-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে সাময়িক ভাবে বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে উপসাগরীয় একাধিক দেশে। তার মধ্যেই ছিল আরব দুনিয়া এবং সেখানে সরাসরি আঘাতের মুখে পড়েছে দুবাই। দুবাই ও সংলগ্ন দেশগুলির আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আটকানোও গেছে। কিছু প্রজেক্টাইল সমুদ্রে পড়লেও, কয়েকটি বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানে— হোটেল, বন্দর এলাকা এবং বিমানবন্দরের আশপাশে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয়রা যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনই এ দেশ থেকে রওনা দিতে না পারা যাত্রীরাও অনিশ্চয়তায়। উদ্ধার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক হয়েছে। রবিবার রাতে দিল্লিতে ফিরে সেই বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত বিদেশিদের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা ভারতে অস্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। অশান্ত উপসাগরের প্রভাব যে বৈশ্বিক, তা আরও একবার স্পষ্ট আকাশপথের এই অচলাবস্থায়।
এতকিছুর মধ্যে দুবাইয়ের হামলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। দশকের পর দশক ধরে দুবাই এমন এক ধারণা তৈরি করেছে যে, তারা আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়ে দিল, মধ্যপ্রাচ্যের মতো পরস্পর-সংযুক্ত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনও বড় শহর সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না।
তবে একথাও ঠিক, দুবাইয়ের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দ্রুত পুনরুদ্ধার কৌশল এবং অর্থনৈতিক বিকল্প পরিকল্পনা নিশ্চয়ই পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করবে। শহরটি হয়তো দ্রুত স্বাভাবিকতায় ফিরবে।