আকাশসীমা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৪০টিরও বেশি ফ্লাইটকে মাঝপথ থেকেই ঘুরিয়ে নিতে হয়। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশে বহু যাত্রী আটকে পড়েছেন

ইরান-ইজরায়েল সংঘাত
শেষ আপডেট: 2 March 2026 09:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের (Iran-Israel-Conflicts) আবহে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। রবিবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক দেশের আকাশপথ (Airspace)। এরফলে বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার বিমান বাতিল হয়েছে, বিমানবন্দরে ভিড় জমেছে যাত্রীদের। গত কয়েক বছরে এটিই সবচেয়ে বড় বিমান-বিপর্যয় (Aviation Disruptions) বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স সংস্থা Cirium জানিয়েছে, শুধু শনিবারই বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৮০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল (Flights Cancelled) হয়। রবিবার বাতিল হয় আরও প্রায় ১,৪০০টি। যার প্রভাব পড়েছে পশ্চিম এশিয়া ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক দীর্ঘ দূরত্বের রুটেও।
ইরান (Iran), ইজরায়েল (Israel), ইরাক (Iraq), কাতার (Quatar), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরেন, কুয়েত ও জর্ডান- এই আট দেশ আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলের বিশ্বের কিছু ব্যস্ততম বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। তার মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Dubai International Airport), বেন গুরিয় বিমানবন্দর, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য।
ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলিও বড় ধাক্কার মুখে। দেশের তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা- এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেট- ৬৩০ টিরও বেশি বিমান বাতিল করেছে। শুধু ইন্ডিগোই ২ মার্চ ১৬০ টি বিমান বাতিলের ঘোষণা করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ইউরোপ ও আমেরিকা রুটের বেশ কিছু বিমান পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে।
এদিকে আকাশপথ বন্ধ থাকায় একাধিক বিমান ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। কিছু রুটে সরাসরি উড়ানও বন্ধ করতে হয়েছে।
আকাশসীমা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৪০টিরও বেশি ফ্লাইটকে মাঝপথ থেকেই ঘুরিয়ে নিতে হয়। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশে বহু যাত্রী আটকে পড়েছেন, বিশেষ করে যাঁদের সংযোগ ফ্লাইট ছিল পশ্চিম এশিয়ার হাবগুলোর মাধ্যমে।
বিশ্বের ব্যস্ততম ট্রানজিট হাব দুবাইয়ে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে, তবে স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেশজ্ঞদের মতে, আকাশসীমা খুললেও দ্রুত সব ফ্লাইটে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে না। কারণ-
সবকিছুতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
এছাড়া সাধারণ ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দেয় না। কেবল 'ক্যানসেল ফর এনি রিজন' ধরনের পলিসি থাকলে কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।