ইজরায়েলে হামলার (Hizbullah Israel Attack) দায় স্বীকার করে নিয়েছে হিজবুল্লাহ। খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) প্রতিশোধ নিতেই তাঁরা লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে।

ইজরায়েল-হিজবুল্লা সংঘাত
শেষ আপডেট: 2 March 2026 09:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর (Khamenei's Death) মৃত্যুর পর আরবদুনিয়ায় যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তা এবার সরাসরি লেবানন-ইজরায়েল (Lebanon-Israel) সীমান্তে বড়সড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে। তেহরান (Tehran) খামেনেইর নিহত হওয়ার খবর ঘোষণা করতেই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লা গোষ্ঠী (Hezbollah) ইজরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে। যদিও লেবানন সরকার এই পদক্ষেপকে কোনওনভাবেই সমর্থন করেনি। এরপরই সোমবার ভোরে ওই দেশের রাজধানী বৈরুত-সহ একাধিক জায়গায় হামলা চালায় ইজরায়েল (Israel)।
ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। একটি বিবৃতিতে সেনার তরফে জানানো হয়েছে, "হিজবুল্লার প্রজেকটাইল হামলার জবাবে আমরা লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ওই সন্ত্রাসী সংগঠনের ঘাঁটিগুলিতে হামলা শুরু করেছি।” হিজবুল্লার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা করা হয়েছে বলে খবর।
হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যেই ইজরায়েলে হামলার (Hizbullah Israel Attack) দায় স্বীকার করে নিয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) প্রতিশোধ নিতেই তাঁরা লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ এবং লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষার লক্ষ্যেই এই অভিযান।'
রবিবার গভীর রাতে হিজবুল্লার আক্রমণের পর সোমবার ভোর থেকেই প্রতিরোধ শুরু করে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। সোমবার ভোরে বৈরুতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইজরায়েল দাবি করেছে, তাদের হামলায় হিজবুল্লার কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার মারা গেছে। লেবাননের সরকারি সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, দেগোলাগুলি ও বিস্ফোরণে রাজধানী বৈরুতের বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গ্রাম খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সন্দেহজনক।' যদিও তিনি সরাসরি হিজবুল্লার নাম নেননি, সালামের বক্তব্য, সরকার দেশের জনগণের সুরক্ষার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেবে এবং অস্থিরতা ছড়াতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটাই তাদের প্রথম বড় আক্রমণ, ফলে শান্তি-চুক্তি কার্যত ভেঙে গেল।