কলকাতার আনন্দপুরে একটি ব্র্যান্ডেড মোমো কারখানায় ভয়াবহ আগুন। ঘটনাস্থলে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন, খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না নাইট ডিউটিতে থাকা কর্মীদের।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 26 January 2026 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরে একটি মোমো তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুন। ঘটনাস্থলে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন কাজ করছে। কারখানার ভিতরে রাতে ছয় কর্মী ছিলেন। তাঁরা নাইট ডিউটি করছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। ছ'জনেরই কোনও খোঁজ নেইনি। মোমো কারখানার অন্যান্য কর্মীরা রয়েছেন ঘটনাস্থলে।
রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ আগুন লাগে ওই কারখানায়। মোমো তৈরি হয় সেখানে, ফলে প্রচুর পরিমাণ পাম তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। আগুনের তীব্রতা তাই ভয়াবহ রূপ নেয় মুহূর্তেই। দমকলকর্মীরা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁরা মূল জায়গায় পৌঁছতেই পারেননি। অর্থাৎ আগুনের উৎসস্থল পর্যন্ত যাওয়া যায়নি ফলে সকাল হয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, রাতে কারখানায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দমকলে খবর দেয়। দ্রুত ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে কিন্তু তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, কিছুই করে উঠতে পারছিলেন না কেউ। ভোরের দিকে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে, নিখোঁজ ছয় কর্মীর পরিবারের লোকজন জানান। তাঁরা ফোনে পাচ্ছেন না কাউকে। একজনের ফোন বেজে যাচ্ছে, তিনি ধরছেন না। ভিতরে আটকে আছেন না পালিয়ে গেছেন আগুন লাগার সময়, তা বোঝা যাচ্ছে না।
এক কর্মীর আত্মীয় বলেন, 'রাতে হঠাৎ ফোন করে বলছিল, দমবন্ধ লাগছে। আমি মনে হয় বাঁচব না। আগুন লেগেছে কারখানায়। ৫ মিনিটে এসে না বাঁচালে মরে যাব। তারপর আর জানি না। আমরা দমকলকর্মীদের জানিয়েছি। ওঁরা দেখছেন। ভিতরে না যাওয়া পর্যন্ত কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।'

<strong>সকালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি</strong>
মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার এক কর্মী গোটা ঘটনার দোষ চাপান এক ডেকরেটার্স সংস্থার উপর। তাঁর বক্তব্য, কারখানাটির পাশেই ডেকরেটার্স সংস্থার সরঞ্জাম রাখা হত। বহুবার না কি তাঁদের বলা হয়েছে ওসব সরানোর জন্য কারণ কারখানায় দাহ্য বস্তু থাকে। আগুন লাগলে বিপদ হতে পারে। কিন্তু ওই সংস্থার মালিক কথা শোনেননি।
তিনি জানান, রাতে ডিউটিতে থাকা কর্মীদের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল আগুন লাগার সময়। তাঁরা নাকি জানিয়েছিলেন ভেঙে বেরনোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারপর থেকে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আগেও ছোটখাটো আগুন লেগেছিল, বার বার জানানো হয়েছিল, কিছু ব্যবস্থা করতে কারণ তাঁদের বাড়িঘরও আছে। কিন্তু কেউ কিছুই তোয়াক্কা করেনি। আজ এত বড় বিপদ হয়ে গেল!
এনিয়ে স্থানীয় পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। কীভাবে আগুন লাগল তা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।