দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পার্থ চোঙদারের আয়ের তুলনায় সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ কোটিরও বেশি বেড়েছে।

কলকাতা পুরসভা
শেষ আপডেট: 7 November 2025 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য পুলিশের (West Bengal Police) দুর্নীতি দমন শাখার জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার (KMC) এক ইঞ্জিনিয়ার। ধৃত পার্থ চোঙদার পুরসভার প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি জমিয়েছেন কোটি টাকায়। তদন্তে মিলেছে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিপুল পরিমাণ ফিক্সড ডিপোজিট (Fixed Deposit), এমনকি একাধিক ফ্ল্যাট ও বাংলোও।
দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পার্থ চোঙদারের আয়ের তুলনায় সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ কোটিরও বেশি বেড়েছে। চার বছরে তাঁর মোট বেতন ছিল প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা, অথচ তাঁর নামে ও বেনামে মিলেছে প্রায় ৬ কোটি টাকার সম্পত্তি।
সূত্রের খবর, নিউটাউনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে রয়েছে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট। পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি ব্যাঙ্কেও রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ—কোথাও ১০ লক্ষ, কোথাও ২০ বা ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, পার্থর শ্বশুরবাড়ি মালদহে। সেখানকার আত্মীয়দের নথি ব্যবহার করেও কলকাতার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে অন্তত পাঁচ-ছ’টি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তিনি, যেখানে রাখা রয়েছে আরও প্রায় কোটি টাকা।
এছাড়াও তদন্তে উঠে এসেছে, কলকাতা ও আশপাশে তাঁর নামে ছ’টি ফ্ল্যাট, বোলপুরে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার একটি বাংলো এবং স্ত্রীর নামে একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার অস্তিত্ব। ধৃতের লকার থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭৩৫ গ্রাম সোনা। জীবনবিমার পাশাপাশি বিদেশ সফরের নথিও মিলেছে তাঁর নামে।
এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ২০২৩ সাল থেকেই পার্থর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন শাখা। প্রায় দু’বছর ধরে চলা তদন্তের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাঁকে তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে।
তদন্তকারীদের দাবি, পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এই সম্পত্তির প্রকৃত উৎস জানা যাবে। তিনি কোনও অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জন করেছেন কি না, বা অন্য কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা পুরসভার তরফে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, কোনও কর্মী দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে রেয়াত করা হবে না। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতাতেই এবার গ্রেপ্তার হলেন ইঞ্জিনিয়ার পার্থ চোঙদার।