কলকাতা মেট্রো শীঘ্রই কমাতে চলেছে ২টো ট্রেনের চলাচলের মধ্যে ব্যবধান। উত্তর-দক্ষিণ করিডরে ৬ মিনিটের বদলে ২ মিনিট অন্তর ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জেনে নিন, কীভাবে বদল আসছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 November 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের বেড়ে যাওয়া যাত্রীচাপ সামলাতে উত্তর–দক্ষিণ বা ব্লু লাইনে এখনকার ৬ মিনিটের ব্যবধান কমিয়ে দুই মিনিট করতে চায় কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তিগতভাবে এ লক্ষ্য পূরণ করতে দুইটি মূল পরিবর্তন জরুরি, আরও রেক সরবরাহ এবং লাইনে কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল (CBTC) সিগন্যালিং ব্যবস্থা লাগানো।
মেট্রোর ইঞ্জিনিয়ারদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রেনের হেডওয়ে (headway) কমাতে হলে শুধু রেক বাড়ালেই হবে না; সিগন্যালিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও আধুনিক করতে হবে। বর্তমানে ব্লু লাইনে চলমান রেকগুলোর মধ্যে কেবল চিন থেকে আনা CRRC-Dalian রেকেই CBTC প্রযুক্তি মেলে; অন্য ICF ও Medha রেকগুলোকে উপযোগী করে তোলা লাগবে। ফলে পুরো করিডরে দুই মিনিটের গতিতে ট্রেন চালাতে গেলে রেক-রিনফিটিং, সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার আপডেট ও সমন্বিত সিগন্যাল কনফিগারেশন অপরিহার্য।
কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু মিশ্র জানিয়েছেন, ব্লু লাইনে CBTC অনুমোদন মিলেছে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৪৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু এই কাজ শেষ করতে কমপক্ষে তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে বলে মেট্রো কর্তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।
সিগন্যালিং পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ড্রাইভারবিহীন (driverless) পরিষেবা পুরো করিডরে কার্যকর করা সম্ভব হবে না। তবে CBTC চালু হলে ড্রাইভার ছাড়া ট্রেন চলানো যাবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়াররা; সেক্ষেত্রে ট্রেন অ্যাটেন্ড্যান্ট অবশ্যই থাকবে।
উপকাঠামো সম্পর্কিত কয়েকটি কাজও যাত্রীসুবিধা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণের শেষ স্টেশন কবি সুভাষে মেরামতির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। কর্তৃপক্ষের আশা, ২০২৬ সালের শেষে কবি সুভাষ স্টেশন যাত্রী পরিষেবায় যোগ দিতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে ক্রস-ওভার তৈরির কাজ শেষ হলে ব্লু লাইনের রোস্টারিং ও অপারেশনাল ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে, যে সব কাজ মিললে হাইডওয়ের সংকট কিছুটা কমবে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ এবং ইঞ্জিনিয়ারদের পরিকল্পনা কার্যকর হলে যাত্রীদের ভিড় ও অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তবে বাস্তবায়নের সময়সীমা ও রেক-সংসারের খরচ দুইই বড় চ্যালেঞ্জ রয়েই যাচ্ছে।