৪১ বছরে ৩.৫ থেকে বেড়ে ৯১ কিমি! ক্রমে বাড়ছে কলকাতা মেট্রোর পথ, কিন্তু রুট বাড়লে কি সত্যিই মিটবে যাত্রীদের সমস্যা?

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 November 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ অক্টোবর ১৯৮৪ কলকাতায় যখন প্রথম মেট্রো শুরু হল, তখন রুট ছিল মাত্র ৩.৫ কিলোমিটারের। সেই ছোট্ট লাইন থেকেই শুরু হয় দেশের প্রথম মেট্রো সেবার ইতিহাস। ৪১ বছর পরে অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সেই লাইনের দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ কিলোমিটার, এখন আর সেকালের কলকাতা নেই।
রুট সেই যে বিস্তৃত হওয়া শুরু হল, আর থামার নাম নেই। মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু মিশ্র জানিয়েছেন, আগামী এক বছরে—২০২৬ সালের ডিসেম্বরে আরও অন্তত ১৯ কিলোমিটার যুক্ত হলে শহরের লাইফলাইন হবে ৯১ কিমি।
গত কয়েক মাসে গ্রিন ও ইয়েলো লাইনে সংযুক্তির ফলে যে পরিমাণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর মানুষকে সেবা করতে গিয়ে তাঁদের এই তৃপ্তিই রেলকে জোগাচ্ছে বাড়তি অক্সিজেন। সূত্রের খবর, ২০২৫ সালে রুট সম্প্রসারণে ১৩ কিমি যোগ হয়েছে। মিশ্রের কথায়, 'শুধু অরেঞ্জ লাইনের বিস্তারে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে আরও ১৯ কিমি চলবে বলে আশা। পার্পল লাইনের—জোকা থেকে বিবাদী বাগ পর্যন্ত—খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট অংশে সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে; তা শেষ হলেই প্রায় ১০ কিমি আরও যুক্ত হবে।'
এদিকে ইয়েলো লাইনের নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বর্তমানে যাত্রী চলাচল শুরু হয়েছে এবং বিমানবন্দর থেকে বারাসতের দিকে রুট সম্প্রসারণের কাজও এখন চলছে। মেট্রো কর্তারা বলছেন, রেলবোর্ড ইতিমধ্যেই ৫৭ কিমি নতুন রুট সম্প্রসারণ অনুমোদন করেছে; এর মধ্যে ২৯ কিমি পথে কাজ চলছে।
নতুন রুট যেমন হয়েছে, তেমনই বেড়েছে চাপও। রোজই বিভ্রাটের খবর ভেসে ওঠে টিভির পর্দায়। গত কয়েক মাসে এমন কোনও সপ্তাহ খুঁজে পাওয়া মুশকিল যেখানে মেট্রো পরিষেবা নির্বিঘ্ন ছিল। প্রতিনিয়তই যান্ত্রিক ত্রুটি, সংকেতগত গোলযোগ বা ট্রেনে অন্যান্য ঝামেলা। ব্লু লাইনে ক্রমশ ভিড় বেড়েছে, টালিগঞ্জ থেকে উঠা যাত্রীদের বড় একটি অংশ বেহালার দিক থেকে আসায় ব্লু লাইনে চাপ বাড়ে। এবার রুট আরও বাড়ালে এই সমস্যার সমাধান হবে কি? যাত্রীদের মনে একটাই প্রশ্ন।
মেট্রো কর্তাদের ধারণা, পার্পল লাইনের পরিষেবা পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত চালু হলেই ব্লু লাইনের জনসম্ভার অনেকটাই কমে যাবে। তবু নগরের সচেতন যাত্রী বলছেন, রুট বাড়ানো হলে তার সঙ্গে জরুরি সার্ভিসিং, রক্ষণাবেক্ষণ, সিস্টেম আপগ্রেড আর ট্রেন ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো না হলে প্রকৃত উপকার মিলবে না। শুধু রেলপথ লম্বা হলেই আরাম বা গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায় না, পরিষেবার মানও বাড়াতে হবে।
এই মুহূর্তে দিল্লির মতো ৩৫২ কিমি রুটের শহরকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই সোজা নয়। তবু ইতিহাসের প্রথম মেট্রো শহর হিসেবে কলকাতার পথে মেট্রোর গতিবিধি বেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ইঙ্গিত।