আইআইএম জোকার হোস্টেলে তেমন কড়াকড়ি ছিল না কখনওই। যে কোনও কেউ হোস্টেলে ঢুকতে তো পারতেনই, এমনকি ছেলেদের হোস্টেলে মেয়েদের ঢোকা বা উল্টোটা—কোনওটা নিয়েই কোনও বাধা বা নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

আইআইএম জোকা।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজের পরেই জোকা আইআইএম প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় উত্তাল গোটা শহর তথা রাজ্য। বয়েজ হস্টেলের ভিতরে প্রথম বর্ষের ছাত্রীর নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা সামনে আসার পরে মূল প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এক ছাত্রী বয়েজ হস্টেলে ঢুকে পড়লেন? কী করছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা?
পুলিশের তরফেও জানানো হয়েছে, তদন্তে হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রশ্ন বা বিতর্কে জল ঢেলে দিলেন আইআইএম জোকার চুক্তি-কর্মী, ইউনিয়নের সদস্য অর্ধেন্দু মণ্ডল। তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘কোনও স্টুডেন্ট অন্য স্টুডেন্টকে নিয়ে নিয়ে হোস্টেলে ঢুকলে, কার কী বলার আছে!’
দ্য ওয়ালের তরফে তাঁকে ফোন করে প্রশ্ন করা হয়, এই ঘটনার সময়ে নিরাপত্তারক্ষীরা কোথায় ছিলেন। অর্ধেন্দুবাবুর পাল্টা প্রশ্ন, ‘কোন স্টুডেন্ট কোন ঘরে ঢোকার পরে কী ঘটছে, দোষ হল সিকিউরিটির? সিকিউরিটি কি প্রতিটা স্টুডেন্টকে চেনেন?’
অর্ধেন্দুবাবুর ব্যাখ্যা, ‘ধরুন আমি ছাত্র। এবার আমার সঙ্গে কোনও মেয়ে ঢুকল। সেই মেয়েটি যদি স্টুডেন্ট নাও হয়, তাহলেও আমি মেয়েটিকে আগে থেকে বলে ঢুকিয়ে দিতে পারি, তুমি চলে যাও, কেউ ধরবে না, ধরলে বলবে তুমি স্টুডেন্ট। এভাবে কে কাকে আনছে, কীভাবে বুঝব?’
তাঁর কথা থেকে আন্দাজ মিলেছে, আইআইএম জোকার হোস্টেলে তেমন কড়াকড়ি ছিল না কখনওই। যে কোনও কেউ হোস্টেলে ঢুকতে তো পারতেনই, এমনকি ছেলেদের হোস্টেলে মেয়েদের ঢোকা বা উল্টোটা—কোনওটা নিয়েই কোনও বাধা বা নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
অর্ধেন্দুবাবু আরও বলেন, ‘হস্টেলের গেট একটাই। সেখানেই কেবল সিকিউরিটি থাকে। ভিতরে দুটো আলাদা উইং। ছেলেদের আর মেয়েদের। সেখানে আলাদা কোনও সিকিউরিটি থাকে না। ফলে কোনও মেয়ে যদি ছেলেদের ঘরে বা কোনও ছেলে যদি মেয়েদের ঘরে যায়, সেটা নিয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। যে কোনও রুমে যে কেউ যেতে পারেন। এবং এটা হতেই থাকত, ছেলেমেয়েরা নিজেদের মতো বন্ধুবান্ধবীর রুমে যাওয়া আসা করতই।’
গতকালের (শুক্রবার) ঘটনার কথা জানতে চাইলে দক্ষিণ শহরতলির বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা অর্ধেন্দুবাবু বলেন, ‘আমি কাল ডিউটি করে রাত ৮-৯টা নাগাদ বাড়ি চলে গেছি। আমি এসবের কিছুই জানি না। আজ দুপুর দুটোই ডিউটিতে যাব আবার।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিকিউরিটির কোনও দায়িত্ব নেই এসব দেখার। আমি সিকিউরিটি হিসেবে কী করে দেখে বুঝব, কে কোথায় যাচ্ছে। সিকিউরিটি গেটে থাকেন। কিন্তু ছেলে বা মেয়ে কখন ঢুকছে, কোথায় যাচ্ছে, এসব দেখার কোনও নিয়ম নেই।’
পুলিশ সূত্রে এখনও যা জানা যাচ্ছে, শুক্রবার কাউন্সেলিং সেশন নেওয়ার নাম করে ওই তরুণীকে বয়েজ হস্টেলের ভিজিটার্স রুমে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত। সেখানেই তাকে ঠান্ডা পানীয় ও কিছু খাবার দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই পানীয় খেয়েই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৬৪ এবং ১২৩ ধারায় মামলা রুজু করেছে। নির্যাতিতার বয়ান ও মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মীর বক্তব্য আরও গভীর প্রশ্ন তুলে দিল, হোস্টেলে সকলের এই যাতায়াত, যে কোনও ঘরে যে কারও ঢুকতে পারার অনুমতি—এটা কতটা যুক্তিসঙ্গত বা নিরাপত্তার দিক থেকে আদৌ গ্রহণযোগ্য কিনা! কারণ কসবা-কাণ্ডের পর থেকে এমনিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা এবং মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সব মহলে। তাহলে কি অবাধ অনিয়মেই লুকিয়ে বিপদের বীজ?
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্তার প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। ডিরেক্টর শৈবাল চট্টোপাধ্যায়, পিআরও অলোক গুঁই, স্টুডেন্ট ইস্যু ইন চার্জ সুমন্ত বসু—কেউই ফোন ধরেননি। কারও কোনও প্রতিক্রিয়া মিললে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।