গত ২৫ জুন কসবা আইন কলেজে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় হয় রাজ্য। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আইআইএম কলকাতার হস্টেলে ফের ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল শিক্ষাঙ্গনে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ঘিরে বড়সড় প্রশ্ন। কসবা আইন কলেজের পর এবার জোকায় আইআইএম কলকাতার বয়েজ হস্টেলেই (Joka IIM Boys Hostel) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র কাউন্সেলিংয়ের নাম করে এক ছাত্রীকে হস্টেলে ডেকে খাবারে মাদক জাতীয় কিছু মিশিয়ে ধর্ষণ করে।
নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। ধৃত আইআইএম-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, কাউন্সেলিং সেশনের নাম করে ওই ছাত্রীকে বয়েজ হস্টেলের ভিজিটর্স রুমে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত। সেখানেই তাকে ঠান্ডা পানীয় ও কিছু খাবার দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই পানীয় খেয়েই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৬৪ এবং ১২৩ ধারায় মামলা রুজু করেছে। নির্যাতিতার বয়ান ও মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এক ছাত্রী রেজিস্টারে সই না করেই বয়েজ হস্টেলে ঢুকে পড়লেন? কী করছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা? নাকি অভিযুক্ত প্রভাবশালী? গোটা ঘটনায় রক্ষীদের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন কসবা আইন কলেজে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় হয় রাজ্য। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আইআইএম কলকাতার হস্টেলে ফের ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল শিক্ষাঙ্গনে।
আইনশৃঙ্খলা এবং মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্যের একাধিক প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চুপ করে থাকা আর চলবে না, এমনটাই মনে করছেন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। কলেজের ভেতরে অভিযুক্তর প্রভাব কী রকম ছিল, তদন্তে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্তার প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।