অভিযোগ, কাউন্সেলিং সেশনের নামে ছাত্রীকে বয়েজ হস্টেলে ডাকে অভিযুক্ত। সেখানে ঠান্ডা পানীয় ও পিৎজা জাতীয় কিছু খাবার দেওয়া হয় তাঁকে। পুলিশকে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, সেই পানীয় খাওয়ার পরই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এমনকী জ্ঞান ফিরলে প্রতিরোধ করতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।
ঘটনার রেশ কাটিয়ে উঠে নির্যাতিতা প্রথমে ঠাকুর পুকুর থানায় যান। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে হরিদেবপুর থানায় নিয়ে আসে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুক্রবার গভীর রাতে হরিদেবপুর থানার পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ছাত্রের নাম অবশ্য গোপন রেখেছেন তদন্তকারীরা। তবে গোটা ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। পুলিশকে নির্যাতিতা ছাত্রী জানিয়েছেন, তাঁকে বয়েজ হস্টেলের রেজিস্টারে সই করতে দেওয়া হয়নি। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বয়েজ হস্টেলের রেজিস্টারে সই না করিয়েই কীভাবে এক ছাত্রীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হল। বিষয়টি কি নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল, নাকি তাঁরা সব জানতেন? গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা।
এ ব্যাপারে আইআইএম কলকাতা প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইএম কলকাতা, যা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়, সেই প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান এতদিন শিক্ষার মানের জন্য পরিচিত ছিল, এখন সেখানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। ঘটনার দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন নির্যাতিতার সহপাঠীরা।