জোকা ইএসআই হাসপাতালে আত্মীয়কে দেখতে এসেছিলেন। গেটে ঢোকার সময় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু প্রৌঢ়ের। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে পলাতক গাড়ির খোঁজে নেমেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোকা ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি আত্মীয়। দেখতে যাচ্ছিলেন সোমবার ভোরে। হাসপাতালে ঢোকার মুখে বেপরোয়া গতির গাড়ি ধাক্কা মারে ব্যক্তিকে। তিনি তখনই লুটিয়ে পড়েন রাস্তায়। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ভিতরে নিয়ে যান সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছেন, অরূপ নামে ওই ব্যক্তির বাড়ি মহেশতলা থানার আশুতি এলাকায়। সকালে হাঁটতে হাঁটতেই তিনি হাসপাতালে চলে আসেন। হাসপাতাল হওয়ায় ওই এলাকায় ধীরে গাড়ি চালানোরই কথা লেখা আছে রাস্তার আশপাশে, তাতেও কীভাবে এমন দুর্ঘটনা হল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উত্তেজনা ছড়ায় জোকা-ঠাকুরপুকুর এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটি ধাক্কা মেরেই পালিয়ে যায়। গতি এতটাই বেশি ছিল যে নম্বর প্লেট পড়ে ওঠার সুযোগই মেলেনি।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে ঠাকুরপুকুর থানার (Thakurpukur Police Station) পুলিশ। হাসপাতালের সামনে এবং রাস্তায় লাগানো একাধিক সিসিটিভি (CCTV Footage) ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য, ফুটেজ থেকে গাড়ির দিক ও গতিপথ চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পলাতক চালককে ধরতে চলছে তল্লাশি।
মহেশতলার আশুতি গ্রামে এদিন শোকের ছায়া। প্রতিবেশীদের কথায়, অরূপবাবু শান্ত, নিরীহ, ভোরে বেরোনোর অভ্যেস ছিল বহুদিনের। হাসপাতালে ভর্তি আত্মীয়কে দেখতে গিয়ে এমন হতে পারে কোনওদিন!
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, চালককে ধরতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
গতকাল অর্থাৎ রবিবার ভোরেই ঠাকুরপুকুর এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনা হয়। পূর্বপাড়া হাইস্কুলের কাছে চার মাথা মোড়ে একটি বাইককে পিষে দেয় লরি। মৃত্যু হয় দুই ডাক্তারি পড়ুয়ার। ঘটনার সিসিটিভি দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা। পর পর এমন দুর্ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে স্থানীয়রা। অনেকেই ট্র্যাফিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, দিনের বেলায় জেমস লং সরণীতে ঠাকুরপুকুর থেকে শীলপাড়া পর্যন্ত এলাকায় সেভাবে কোনও নজরদারি থাকে না। কোনও গাড়িই, বিশেষ করে বাইক সিগন্যাল মানে না। অনেকসময় ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়েছে কিন্তু তাতেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বলেও লাভ হয়নি স্থানীয় প্রশাসনকে। তাদের ক্ষোভ, দিনের বেলা যদি এমন হয় তাহলে রাতে তো হবেই।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাতঃভ্রমণে বেরনো লোকজনও।