দুর্ঘটনার ঠিক ৯ মিনিট আগে দলীয় কর্মীকে ফোন করেছিলেন অজিত, ফোনে তিনি ঠিক কী বলেছিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা।

অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 4 February 2026 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারমতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন একাধিক পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে। মাঝপথেই বিমান ভেঙে মৃত্যু হয় অজিত পাওয়ারের। মৃত্যু আসন্ন তা ঠাওর করতে পেরেছিলেন কি না জানা নেই কিন্তু ঘটনার ঠিক ন’মিনিট আগে ফোন করেছিলেন দলের এক কর্মীকে। কী বলেছিলেন তাতে? সে কথাই এবার প্রকাশ্যে আনল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)।
বিমান দুর্ঘটনায় নিহত অজিতের (Ajit Pawar) শেষ ফোনালাপের অডিও প্রকাশ করে দল জানাল, শেষ মুহূর্তেও তাঁর বার্তা ছিল ঐক্যের ‘সব ধর্ম, সব জাতকে একসঙ্গে নিয়ে চলার’।
৬৬ বছরের অজিত পাওয়ার গত ২৮ জানুয়ারি বারামতী বিমানবন্দরের কাছে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তার ঠিক ন’মিনিট আগে দলের কর্মী শ্রীজিত পাওয়ারের (Shrijeet Pawar) সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। সেই কথোপকথনই ভাইরাল হল সর্বত্র।
শেষ ফোনালাপ: ঐক্যের বার্তাই ছিল অজিতের শেষ কথা
এনসিপি জানাচ্ছে, ২৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে আটটার কিছু পরে শ্রীজিতকে অজিত একটি বার্তা পাঠান। বিমানটি যখন বারামতীর আকাশসীমায় ঢুকে নেটওয়ার্ক পায়, তখনই অজিত ফোনটি করেন। সময় আনুমানিক ৮টা ৩৭ মিনিট।
শ্রীজিত জানান, স্থানীয় এক বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কথা হওয়ার পরই অজিত বলেন, ‘আমরা সব জাত, সব ধর্মকে সঙ্গে নিয়েই এগোচ্ছি।’ এরপর তিনি জানান, ল্যান্ডিংয়ের প্রস্তুতি চলছে, পরে কথা হবে—এই বলে ফোন কেটে দেন। ঠিক ন’মিনিট পর ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
প্রকাশিত অডিওতে শোনা যাচ্ছে, জেলা পরিষদে মালির মতো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথাও বলছেন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর শেষ কথাগুলিতেও ছিল ‘সবাইকে ন্যায্য সম্মান দেওয়ার’ বার্তা।
কেন অডিও প্রকাশ্যে আনল এনসিপি?
দলের বক্তব্য, এই অডিও প্রকাশের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক চমক নয়। শ্রীজিত পাওয়ারের কথায়, ‘এটা মানুষের জানা দরকার যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অজিত দাদার কী ভাবছিলেন। তিনি কীসে বিশ্বাস করতেন।’
তাই এই কথোপকথন শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অজিত পাওয়ারের দর্শনের প্রতিফলন। দল চাইছে, এই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছক।
দুর্ঘটনা ও তার পরের অধ্যায়
২৮ জানুয়ারি সকাল ৮টার কিছু পরে মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেন অজিত। তিনি একটি লেয়ারজেট ৪৫ (Learjet 45) বিমানে ছিলেন, যা দিল্লিভিত্তিক সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারস (VSR Ventures) পরিচালনা করে। স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে বারামতিতে চারটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ নাগাদ বারামতি বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বার ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার ছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, সহকারী এবং দুই ককপিট ক্রু—পাইলট সুমিত কাপুর (Sumit Kapur) ও ফার্স্ট অফিসার শম্ভাবী পাঠক (Shambhavi Pathak) প্রাণ হারান।
এই মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে তৈরি হয় বড় শূন্যতা। দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার (Sunetra Pawar) উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। চোখের জলেই মহারাষ্ট্রের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।