প্রথম ধাক্কা সামলে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো ভুল খবর। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ধারণা ভেঙে যায়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আসা একটি ভিডিও কলে ভেসে ওঠে বারামতী বিমানবন্দরের কাছে পড়ে থাকা একটি ছোট জেট বিমানের আগুনে পোড়া ধ্বংসাবশেষ।

সুনেত্রা পাওয়ার এবং অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 3 February 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৮ জানুয়ারির সকালটা সুনেত্রা পাওয়ারের (Sunetra Pawar) জীবনে চিরতরে দাগ কেটে দেয়। দিল্লিতে থাকার সময় একটি ফোন আসে তাঁর কাছে। ফোনের ওপার থেকে বলা কথাগুলো প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। জানানো হয়েছিল, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার বিমান দুর্ঘটনায় (Ajit Pawar Plane Crash) প্রাণ হারিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যান সুনেত্রা। স্বামীর মৃত্যু - এই সত্যি তখন তাঁর কাছে অবাস্তব বলেই মনে হয়েছিল।
প্রথম ধাক্কা সামলে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো ভুল খবর। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ধারণা ভেঙে যায়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আসা একটি ভিডিও কলে ভেসে ওঠে বারামতী বিমানবন্দরের (Baramati Plane Crash) কাছে পড়ে থাকা একটি ছোট জেট বিমানের আগুনে পোড়া ধ্বংসাবশেষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই দৃশ্য দেখেই ভেঙে পড়েন সুনেত্রা পাওয়ার (Sunetra Pawar)। তখন আর কোনও সংশয় ছিল না - মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ, তাঁর স্বামী অজিত পাওয়ার আর নেই। দিল্লি থেকে তৎক্ষণাৎ বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বারামতিতে নামার কথা ছিল ওই বিমানের। অজিত পাওয়ারকে স্বাগত জানাতে তাঁর দফতরের কর্মীরা আগেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। মুম্বই থেকে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে উড়ে আসা এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল পুণের চারটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দেওয়া। ৫ ফেব্রুয়ারির জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত ছিল তাঁর দিনের কর্মসূচি।
কিন্তু সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট নাগাদ পরিস্থিতি বদলে যায়। বিমানবন্দরে থাকা একাধিক মানুষ লক্ষ্য করেন, বিমানটি অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে নামছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের কাছেই ভেঙে পড়ে। দফতরের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে ছুটে গেলেও, আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে আগুন ধরে যায়।
এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। অজিত পাওয়ার ছাড়াও প্রাণ হারান তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বিদীপ যাদব, ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট পিঙ্কি মালি, পাইলট সুমিত কাপুর এবং কো-পাইলট সম্ভাবী পাঠক। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে দু’জন ছিলেন ক্রু সদস্য এবং তিন জন যাত্রী। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার লিয়ারজেটটি ৮টা ৪৫ মিনিটের কাছাকাছি রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশের অনুমান, দুর্ঘটনাটি ঘটে প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুসংবাদে গোটা মহারাষ্ট্রে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজ্যের ক্ষমতার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া এই নেতাকে হারিয়ে শোকপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস জানান, তিনি এক ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও বন্ধুকে হারালেন। উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে বলেন, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে জানান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক অটুট ছিল।
এই শোকের মধ্যেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর রাজ্যের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনেত্রা পাওয়ার। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে পরিচিত ‘বহিনি’ বা ‘বউদি’ ডাকনামের এই নেত্রীকে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির বিধায়করা পরিষদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তার ফলেই মহাযুতি সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর নাম। শোক ও দায়িত্ব—দু’য়ের ভার নিয়েই নতুন পথে হাঁটতে শুরু করেছেন সুনেত্রা পাওয়ার।