মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “জমি ইতিমধ্যেই ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে। ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে দুর্গা অঙ্গন। জগন্নাথ ধামের মতোই মন কাড়বে জায়গাটা। ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই উদ্বোধন।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 19:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের (Jagannath Dham, Digha) ঢঙে এবার কলকাতায় (Kolkata) তৈরি হচ্ছে এক নতুন তীর্থক্ষেত্র (New Pilgrimage in Rajarhat)—‘দুর্গাঙ্গন’ (Durjangan)। ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Chief Minister Mamata Banerjee) করা সেই ঘোষণায় এ বার রূপ পাচ্ছে বাস্তবে। চার মাস চার দিনের মাথায় বনগাঁর সভা থেকে তিনি জানালেন, রাজারহাটে ইকো টুরিজম পার্কের ঠিক বিপরীতে গড়ে তোলা হবে এই আকর্ষণীয় অঙ্গন। ,
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “জমি ইতিমধ্যেই ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে। ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে দুর্গা অঙ্গন। জগন্নাথ ধামের মতোই মন কাড়বে জায়গাটা। ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই উদ্বোধন।”
দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর যে ভাবে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে, তাতে প্রশাসন ও পর্যটন দফতর উভয়ই উৎসাহিত। সেই সাফল্যের মডেলকে সামনে রেখেই নতুন এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
এ দিনের সভাতেই রাজ্য জুড়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারের উদ্যোগগুলির দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী—বনগাঁর ঠাকুর পরিবার থেকে অনুকুল ঠাকুরের মধ্যমগ্রামের জমি সমস্যা সমাধান, কচুয়া থেকে তারাপীঠ, তারকেশ্বর, কঙ্কালীতলা, বক্রেশ্বর—একাধিক ধর্মস্থানের সংস্কার, ফুরফুরা শরিফের উন্নয়ন, কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক—প্রায় সবকিছুই এক নিঃশ্বাসে মনে করিয়ে দেন তিনি। বলেন, “শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরও তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।”
বক্তৃতার মাঝেই বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “আমরা জাতপাত করি না। ভোটের সময় ওদের তফসিলি ভোট চাই। ভোটের পরে অত্যাচার করে তাকিয়ে দেখেও না। আমার বাড়িতে যে মেয়ে খাবার দেয়, সে তফসিলি পরিবার থেকে—এটাই মানুষে মানুষে সম্পর্ক।”
‘চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম’ মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “আমার বাড়িতে ৪-৫ জন তপসিলি মেয়েকে রেখে মানুষ করেছি, চাকরি দিয়েছি, বিয়ে দিয়েছি। জেলায় গেলে সঙ্গে যায়, রাত্রে সঙ্গে ঘুমোয়, খাবারও সেই দেয়। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখায় আসল। ওদের নেতারা কি পারবেন?”
রাজারহাটে আসন্ন ‘দুর্গাঙ্গন’ তাই শুধু নতুন পর্যটন কেন্দ্রই নয়, সরকারের সম্প্রীতির বার্তাও বয়ে আনবে—এমনটাই মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ।