“আবার দেখা হবে। আমি আপনাদের পাহারাদার—দিল্লির নেতাদের মতো জমিদার নই।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন—নতুন ভোটার তালিকা পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উদ্বেগ চরমে, বিশেষত মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁর বিভিন্ন অঞ্চলে আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ই উদ্বিগ্ন মানুষকে শান্ত করতে মাঠে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee )। এদিন বনগাঁর সভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা—“নাগরিকত্ব নিয়ে ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে ঘুমোবেন, আমি আছি আপনাদের পাশে।”
কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ ও তার লাগোয়া এলাকায়—যা দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়াদের নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়ায় বহু মানুষ নিজের নথি জোগাড় করতে না পেরে আতঙ্কে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বনগাঁ সফরে গিয়ে মানুষের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “এসআইআর হোক, আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটের মুখে হঠাৎ এত তাড়াহুড়ো কেন? ২–৩ বছরের কাজকে ২–৩ মাসে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এতে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ গিয়ে ডাম্প লিস্টে ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হবে।”
তাঁর দাবি, ধান কাটার মরসুমে কৃষকদের সময় নেই, অথচ তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। শুধু সাধারণ মানুষ নন, বিএলও-দেরও “নাভিশ্বাস অবস্থা”।
এদিনের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। বলেন, “ভয় পাবেন না, আমরা থাকতে কেউ আপনাদের তাড়াতে পারবে না। কেউ যেন হতাশায় ভুল সিদ্ধান্ত না নেন। নাগরিকত্বের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি কখনওই মতুয়াদের পাশে দাঁড়ায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বড়মা অসুস্থ হলে কে হাসপাতালে ভর্তি করাত? আমরা ছ’বার ভর্তি করিয়েছি। ঠাকুরবাড়ির উন্নয়ন কারা করেছে?”
কমিশনের উদ্দেশে বলেন, “কার কথা শুনে এত তাড়াহুড়ো শুরু করলেন? আর কত বলিদান দিতে হবে মানুষের?”
মোদী–শাহকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রীর তোপ, “এক মুখে দু'রকম কথা বলছেন! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন ২০২৪-এর আগে যারা এসেছে তাদের তাড়ানো হবে না। আবার কমিশন ২০০২ সালের লিস্ট মানতে বলছে। কোনটা ঠিক?”
সতর্কতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "ইলেকশন এলেই তৃণমূলকে ইডির নোটিস, আর আপনারা যে জোচ্চুরি করে চলেছেন তার বেলা?"
দাবি করেছেন, এইবার বিজেপির নিজস্ব ভোটরাও তৃণমূলকে ভোট দেবেন, কারণ মানুষের ওপর যে হয়রানি চলছে তা কেউ মানবে না। আত্মবিশ্বাসী সুর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তোমাদের ভোটাররাই আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেবে।” গুজরাটেও আগামী ভোটে বিজেপি হারবে
তিনি আরও বলেন, “আমাকে আঘাত করলে সারা ভারত হিলিয়ে দেব। ইলেকশনের পর দেশে দেশে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলব।”
মমতার অভিযোগ, কেন্দ্র বরাবরই বাংলাকে দোষী করার চেষ্টা করছে। অথচ প্রশ্ন থাকছে, “সীমান্ত কে সামলায়? বিমানবন্দর কার অধীনে? পাসপোর্ট–কাস্টমস কার নিয়ন্ত্রণে? তাহলে বাংলাকে কেন দোষ দেন?” খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন, “বাংলা বিদ্বেষী বলেই বাংলাকে ভাতে মারতে চায় ওরা।”
সভা শেষে বনগাঁর মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আবার দেখা হবে। আমি আপনাদের পাহারাদার—দিল্লির নেতাদের মতো জমিদার নই।”
বনগাঁর সভা শেষে চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুরনগর—প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে এসআইআর এর প্রতিবাদে এবং নাগরিকত্ব রক্ষার দাবিতে কলকাতায় মিছিল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মিছিলে হেঁটেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।