কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় এমন বিশৃঙ্খলা যে পুলিশ কোনওভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।

শেষ আপডেট: 4 April 2026 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মনোনয়ন ঘিরে রণক্ষেত্রের ঘটনায় এবার সরাসরি ‘অ্যাকশন’-এ নামল লালবাজার। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও খতিয়ে দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩৫ থেকে ৪০ জনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। লালবাজার সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় এমন বিশৃঙ্খলা যে পুলিশ কোনওভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে নির্বাচন কমিশন আগেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়েছিল। সূত্রের খবর, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দাকে নজিরবিহীন ভাষায় ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, “আইপিএস হয়েও কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে?” কমিশনের এই কড়া মনোভাবের পরেই বুধবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই দুঁদে আধিকারিক ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে শো-কজ করেছে লালবাজার। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন আগে থেকে জমায়েত আটকানো যায়নি এবং কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।
বুধবার দুপুরে হাজরা মোড় থেকে শুভেন্দুর সমর্থনে শাহের রোড শো শুরু হয়। মিছিলটি যখন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির খুব কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই শুরু হয় ধুন্ধুমার। তৃণমূলের একদল কর্মী-সমর্থক মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি ও বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল।
এই গোলমালের ঘটনায় কালীঘাট ও আলিপুর থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা এবং একটি কমিশনের আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। মূলত বেআইনি জমায়েত, শান্তিভঙ্গ এবং সরকারি নির্দেশিকা বা ১৬৩ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজেপির দাবি, তাদের কর্মসূচির জন্য আগাম প্রশাসনিক অনুমতি থাকলেও তৃণমূলের জমায়েতের কোনও বৈধ অনুমতি ছিল না। তবুও কী ভাবে তৃণমূল কর্মীরা সেখানে পৌঁছলেন এবং সংঘর্ষ বাধল, তদন্তে এখন সেটাই মূল বিষয়।
ভোটের মুখে কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং পুলিশের একের পর এক কড়া পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।