পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজারও।

অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 3 April 2026 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মনোনয়ন ঘিরে বুধবারের অশান্তির ঘটনায় এবার নড়াচড়ে বসল প্রশাসন। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতেই যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাড়ায় দুই শিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে চরম ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। সেই রেশ ধরেই পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজারও।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কালীঘাট ও আলিপুর থানায় তিনটি অভিযোগ জমা পড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, বেআইনি জমায়েত, শান্তিভঙ্গ, স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়ানো এবং সরকারি নির্দেশিকা বা ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আলিপুর থানায় জোড়া এবং কালীঘাট থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দাকে চরম ভর্ৎসনা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনারের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইপিএস হয়ে কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে?” কেন একাধিক জায়গায় এমন বেআইনি জমায়েত করতে দেওয়া হল এবং অনুমতি ছাড়া তৃণমূল সমর্থকরা সেখানে পৌঁছল কী করে— তা নিয়েও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। বিজেপির দাবি, তাদের কর্মসূচির জন্য আগাম অনুমতি থাকলেও তৃণমূলের জমায়েতের কোনও বৈধ কাগজ ছিল না।
কী ঘটেছিল সেই দুপুরে?
বুধবার দুপুরে হাজরা মোড় থেকে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে রোড শো শুরু করেন অমিত শাহ। মিছিলটি যখন হরিশ মুখার্জি রোড এবং সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মীরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, পুলিশি ব্যারিকেড থাকার সত্ত্বেও দুই পক্ষই একে অপরের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, পুলিশের সামনেই লাঠি ও বাঁশ নিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই ধস্তাধস্তিতে এক বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হন।
কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে চলা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও আধিকারিকের ‘দায়সারা’ মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না। মালদহ থেকে ভবানীপুর— একের পর এক অশান্তির ঘটনায় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার যে হুঁশিয়ারি জ্ঞানেশ কুমার দিয়েছিলেন, লালবাজারের এই এফআইআর তারই ফলশ্রুতি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আপাতত তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর সবার।