ফের চুরির অভিযোগ উঠল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS Hospital)। রোগীর পরিবারের দাবি, একের পর এক চুরির ঘটনায় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

এনআরএস হাসপাতাল
শেষ আপডেট: 19 February 2026 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার সরকারি (Kolkata Hospital) হাসপাতাল ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। ফের চুরির অভিযোগ উঠল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS Hospital)। রোগীর পরিবারের দাবি, একের পর এক চুরির ঘটনায় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
রাতেই ধরা পড়ে, রাতেই মুক্ত?
অভিযোগ, রাত ৯টা নাগাদ এক মহিলাকে চুরির অভিযোগে ধরে ফেলেন রোগীর আত্মীয়রা। তাঁকে তুলে দেওয়া হয় এন্টালি পুলিশের (Entally Police) হাতে। কিন্তু পরিবারের দাবি, রাত ১১টা নাগাদই ওই মহিলাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নাকি তিনি রোগীর পরিজনদের হুমকি ও হেনস্থা করছেন।
এখানেই শেষ নয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আরও দু’জনকে চুরির অভিযোগে পাকড়াও করেন রোগীর আত্মীয়রা। কিন্তু ইমার্জেন্সিতে থাকা পুলিশকর্মী বা নিরাপত্তারক্ষীদের (Govt Hospital Safety) তরফে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেই অভিযোগ। সূত্রের খবর, ধৃত দু’জনের বিরুদ্ধেও এখনও পর্যন্ত কোনও মামলা রুজু হয়নি। যদিও গোটা ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কী বলছেন রোগীর পরিজনরা?
এক আত্মীয়ের অভিযোগ, “বটুয়া থেকে মোবাইল-টাকা সব চুরি হয়েছে। পুলিশ চোর ধরতেই পারছে না।” আর এক জনের দাবি, “আমার ভাই ভর্তি রয়েছেন। এক ছেলেকে বারবার হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছি। সেই ছেলেটাই ফোন চুরি করছে। পুলিশ ধরতে পারেনি।”
নিরাপত্তাহীনতার আবহ
রোগীর পরিবারগুলির আশঙ্কা, হাসপাতালের চত্বরে দুষ্কৃতীদের অবাধ যাতায়াত তাঁদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। রাতের বেলা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে দাবি তাঁদের।
অনেকেই আরজি কর (RG Kar Case) হাসপাতালের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন। ২০২৪-এর অগস্ট মাসের ঘটনার পর কিছুটা হলেও ছবি পাল্টেছে। কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের নেপথ্যে নিরাপত্তার গাফিলতিকেই অনেকাংশে দায়ী করা হয়েছিল সেই সময়। নিরাপত্তা ও অন্যান্য সংস্কারের নানা দাবি তুলে পথে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
এখন কলকাতা শহরের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালেই নিরাপত্তা আগের চেয়ে বেড়েছে। বাড়তি সিসিটিভি-ও বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্ব সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteer) হাত থেকে গিয়েছে পুলিশ বা বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। তবু এনআরএস-এ চুরির ঘটনা ফের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।