বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন সফল হোল লাং লাভাজ করা হল। এই ধরনের চিকিৎসা যদি বেসরকারি বা ভিনরাজ্যের কোনও হাসপাতালে করা হয়, খরচ পড়বে ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু এনআরএসে হয়েছে সম্পূর্ণ নিঃখরচায়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 5 November 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল চার বছর ধরে। কাশি, বুকে ভারি ভাব—ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নেওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের (Murshidabad youth) জাহিরুল শেখের (নাম পরিবর্তিত)।
শেষমেশ জানা গেল, তিনি আক্রান্ত হয়েছেন এক বিরলতম অসুখে—পালমোনারি অ্যালভিয়োলার প্রোটিনোসিস (PAP)। এই রোগে ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিয়োলাই ভরে যায় সাদা, আঠালো এক প্রোটিন জাতীয় পদার্থে। ফলে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না শরীরে—প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা (NRS treatment)। প্রায় ৬ ঘণ্টার ম্যারাথন অপারেশনে ‘হোল লাং লাভাজ’ পদ্ধতিতে ধুয়ে ফেলা হয় রোগীর ডান ফুসফুস। ব্যবহার করা হয় প্রায় ১৫ লিটার স্যালাইন। চমকপ্রদভাবে এখন জাহিরুল বিনা অক্সিজেনেই স্বাভাবিক শ্বাস নিতে পারছেন। আগামী সপ্তাহে ধোয়া হবে তাঁর বাম ফুসফুসও।
এই বিরল অপারেশনে নেতৃত্ব দেন বক্ষরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ জয়দীপ দেব ও কার্ডিয়োথোরাসিক অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ শম্পা দত্তগুপ্ত। প্রায় ৩০ জন চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীর এক বিশাল দল যুক্ত ছিলেন এই লড়াইয়ে।
তৃতীয় বর্ষের পিজিটি ডাক্তার মুস্তাফি আহমেদ বলেন, “ফুসফুস ফুলিয়ে রাখার জন্য দরকারি সারফেকট্যান্ট প্রোটিন জমে গেলে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন একমাত্র উপায়—দুটো ফুসফুস স্যালাইন দিয়ে ধুয়ে সেই জমা প্রোটিন বের করে দেওয়া।”
তবে পুরো প্রক্রিয়াটাই অত্যন্ত জটিল। ফুসফুস ধোয়ার সময় রোগী কীভাবে শ্বাস নেবেন, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এইজন্য ব্যবহৃত হয় ‘ডবল লুমেন ইনটিউবেশন’—একদিকে ফুসফুস ধোয়া চলতে থাকে, অন্যদিকে অন্য ফুসফুস কৃত্রিম ভেন্টিলেশনে চালু থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন সফল হোল লাং লাভাজ করা হল। এই ধরনের চিকিৎসা যদি বেসরকারি বা ভিনরাজ্যের কোনও হাসপাতালে করা হয়, খরচ পড়বে ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু এনআরএসে হয়েছে সম্পূর্ণ নিঃখরচায়।
এক চিকিৎসকের কথায়, “এটা শুধু এক রোগীর বাঁচার গল্প নয়, বাংলার চিকিৎসাবিজ্ঞানের গর্ব।”