এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১৭১টি গাছ রোপণ করলেন ঝর্ণা ভট্টাচার্য। ধর্ম ও মানবতার প্রশ্নে আলোচনার পাশাপাশি আয়োজন হয় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান।
শেষ আপডেট: 20 June 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার হৃদয়বিদারক অধ্যায়ের সেই স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত হল একটি বিশেষ অনুষ্ঠান— 'কালের কবলে ১৭১'। স্থান ছিল প্রজ্ঞান ভবন, আর কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন সমাজসেবী ও চিন্তক ঝর্ণা ভট্টাচার্য।
এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ঝর্ণা দেবী রোপণ করলেন ঠিক ১৭১টি বৃক্ষ। গাছগুলো শুধু মাটি বা সবুজ নয়, প্রতিটি যেন এক একটি আত্মার স্মারক। তিনি বলেন, “যে প্রাণগুলো চলে গেছে, সেগুলি সূক্ষ্ম দেহে এখনও রয়েছেন। তাঁদের পার্থিব ইচ্ছা আর চাহিদাগুলো থেমে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের আত্মিক স্পর্শ আমরা এই বৃক্ষের মাধ্যমে ছুঁয়ে থাকতে পারি।”
প্রতিটি বৃক্ষ যেন এক একটি প্রাণের প্রতীক, যা পাঁচটি মহাভূতের— জল, বায়ু, অগ্নি, পৃথিবী ও আকাশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমাদের এই গ্রহকে আরও বাসযোগ্য করে তুলবে। ঝর্ণা দেবীর ভাষায়, “মৃত্যুর পরও যদি তাঁদের অস্তিত্বকে কিছুটা টিকিয়ে রাখা যায়, তবে এটাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
অনুষ্ঠানে ছিল একটি সাংস্কৃতিক পর্ব, আর তার পরে আয়োজিত হয় একটি আলোচনা সভা। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল সময়োপযোগী ও তীক্ষ্ণ: 'এত মন্দির, মসজিদ, গির্জা— ধর্মের এত আড়ম্বর, তবু কি ঈশ্বর তাঁর শক্তি হারাচ্ছেন?'
আলোচনায় উঠে আসে সমাজে ধর্মকে ঘিরে চলা বিদ্বেষ, রক্তপাত ও বিভাজনের চিত্র। ঝর্ণা ভট্টাচার্য বলেন, “আজ ধর্ম যেন কেবল ভোটের অঙ্কে পরিণত হয়েছে। অথচ ঈশ্বর তো নিরাকার, সর্বত্র— তবে কেন এত সংঘাত? এত বিভাজন?”
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের খোঁজে, এক গভীর মৌনতা ছড়িয়ে পড়ে সভাস্থলে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছড়িয়ে ছিল এক অন্তর্নিহিত বেদনা, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আশার আলোও—যেখানে ধর্ম নয়, মানবতা হয়ে ওঠে কেন্দ্রবিন্দু। আর যেখানে মৃত্যুও হার মানে সবুজের সামনে।