বটুকেশ্বর দত্তের কন্যা ভারতী দত্ত বাগচির প্রশ্ন— “ইনি কি বটুকেশ্বর দত্ত? ছবিতে যাকে দেখানো হয়েছে তাঁকে আদৌ কি চেনেন পুজো উদ্যোক্তারা? বাঙালি নিজের মেধা নিয়ে গর্ব করে। সেখানে এটা কী ধরনের ভুল?’’

শেষ আপডেট: 1 October 2025 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বড়শুলের একটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে বিপ্লবীদের ছবি ঘিরে বিতর্ক। স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের ছবি টাঙানো হলেও গুরুতর ভুল হয়ে যায়। বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তের নামের নীচে টাঙানো হয় বিপ্লবী যতীন দাসের ছবি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বটুকেশ্বর দত্তের কন্যা ভারতী দত্ত বাগচী। তাঁর প্রশ্ন— “ইনি কি বটুকেশ্বর দত্ত? ছবিতে যাকে দেখানো হয়েছে তাঁকে আদৌ কি চেনেন পুজো উদ্যোক্তারা? বাঙালি নিজের মেধা নিয়ে গর্ব করে। সেখানে এটা কী ধরনের ভুল?’’ সরব হয়েছেন বটুকেশ্বর দত্ত স্মৃতি রক্ষা কমিটির সদস্যরাও। কমিটির সম্পাদক মধুসূদন চন্দ্র জানান, তিনি বিষয়টি জানতে পারার পরই বর্ধমান উত্তর মহকুমাশাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাসকে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের বিডিও দিব্যজ্যোতি দাসকে জানানো হয়।
অভিযোগ আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুজো উদ্যোক্তা বড়শুল ইয়ং মেনস ক্লাব। ক্লাব সম্পাদক অরুণাভ সাহা বলেন, “আমাদের অজান্তেই ভুল হয়েছে। জানতে পারার আধ ঘণ্টার মধ্যেই নাম পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এখন ছবির নীচে সঠিকভাবে যতীন দাসের নাম লেখা আছে। আমরা মধুসূদনবাবুকেও জানিয়েছি। এই ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”
সরকারি অনুদানে গড়া পুজো প্যান্ডেলে এমন ভুল তথ্য পরিবেশন ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের সঠিক পরিচয় তুলে ধরার প্রশ্নে গাফিলতি কেন, সেই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কেন ইতিহাসের বিকৃতি? বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তকে যারা চেনে না তাদের সরকারী অনুদান কিসের জন্য প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।