সিঙ্গাপুরে জুবিন গর্গের মৃত্যুর ঘটনায় ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত গ্রেফতার। স্ত্রী গরিমা গর্গের অভিযোগ, 'সবাই সন্দেহভাজন।'

জুবিন ও গরিমা গর্গ।
শেষ আপডেট: 1 October 2025 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের কিংবদন্তি গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু রহস্য ঘিরে বড়সড় মোড়। গায়কের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং সিঙ্গাপুর ইভেন্টের আয়োজক শ্যামকানু মহন্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে দিল্লি ফিরতেই ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মহন্তকে আটক করা হয়। অন্যদিকে গুরগাঁওয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ধরা হয় জুবিনের দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মাকে। পরে দু'জনকেই বুধবার ভোরে গুয়াহাটিতে নিয়ে আসা হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় জুবিন গর্গের। ঘটনার তদন্তে অসম সরকার ১০ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তদল (SIT) গঠন করে, যার নেতৃত্বে আছেন স্পেশাল ডি-জিপি এম পি গুপ্তা। SIT ইতিমধ্যে নোটিস পাঠিয়েছে মহন্ত ও শর্মাকে। তাছাড়াও সিঙ্গাপুর অসম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া কয়েকজনকেও ডেকেছে তারা।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে মহন্ত ও শর্মার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হয়েছে এবং তাদের ৬ অক্টোবরের মধ্যে CID-র সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু তাঁরা হাজির না হওয়ায় পুলিশ পদক্ষেপ নেয়।
জুবিন গর্গের স্ত্রী গরিমা গর্গ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি কোনওভাবেই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মেনে নিচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, 'যে-যে সেদিন সেখানে ছিল, সবাই সন্দেহের আওতায়। আমরা এফআইআর করেছি। আয়োজক, ম্যানেজার, পুরো টিম— আমরা প্রত্যেককে সন্দেহ করছি।'
গরিমা আরও বলেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অবহেলার কারণে। তাঁর কথায়, 'আমাদের দেশের আইনব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা দ্রুত তদন্ত চাইছি। আসলে সেদিন কী হয়েছিল, সেটা জানতে হবে।'
গরিমা আরও জানান, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠানে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না জুবিনের। তিনি ব্যস্ত ছিলেন তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প ‘রয় রয় বিনালে’ নিয়ে। তবুও, দীর্ঘদিনের পরিচিত শ্যামকানু মহন্তর জন্যই মাত্র তিন-চার দিনের জন্য সিঙ্গাপুর যান। গরিমা বলেন, 'জুবিন সবসময় ওকে (মহন্তকে) সাহায্য করতে চেয়েছে। কিন্তু এর বিনিময়ে ওর প্রাণ চলে গেল।'
তাঁর অভিযোগ, জুবিনের ম্যানেজারসহ অনেকেই তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করেননি, অবহেলা করেছেন। তিনি বলেন, 'এখনও আমরা শোকের মধ্যে আছি। রীতিনীতি শেষ হোক, তারপর ওর অসমাপ্ত কাজ আর উত্তরাধিকার রক্ষার পরিকল্পনা করতে হবে। একা আমার পক্ষে হবে না, সবার সাহায্য লাগবে।'
জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে জনমনে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা সিঙ্গাপুরে উপস্থিত অনেককে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আসাম পুলিশ ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও আয়োজক শ্যামকানু মহন্তর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, ইচ্ছাকৃত হত্যার সমতুল্য অপরাধ এবং অবহেলার কারণে মৃত্যু ঘটানোর মামলা দায়ের করেছে।
বুধবার জোড়হাটে জুবিনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে হাজারো মানুষ প্রিয় শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভিড় করেন। রাজ্য সরকার নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা নেয়। ভক্তদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য জুবিনের অস্থি ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য রাখা হবে।
সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, জোরহাটে জুবিন গার্গের দ্বিতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে, যাতে তাঁর সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রে অবদানের স্থায়ী স্মৃতি রক্ষা পায়।