শুভেন্দুর বক্তব্য, জেলার বিভিন্ন স্তরের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা গোপনে যোগাযোগ করছেন। কথায় কথায় তৃণমূলে যোগদানের ‘চাপ’, আর যোগ দিলে কী কী সুবিধা মেলে - তারও নাকি তালিকা শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 27 November 2025 17:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাকের (I-PAC) কার্যকলাপ ঘিরে আবারও তীব্র অভিযোগের সুর তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার (Purba Medinipur Police Super) নাকি আইপ্যাকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি কর্মীদের (BJP Workers) উপর সংগঠিত চাপ তৈরি করছেন।
বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে (Nandigram) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করে বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের দলে টানার চেষ্টা চলছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে আইপ্যাকের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলেই দাবি তাঁর।
শুভেন্দুর বক্তব্য, জেলার বিভিন্ন স্তরের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা (I-PAC Team) গোপনে যোগাযোগ করছেন। কথায় কথায় তৃণমূলে যোগদানের ‘চাপ’, আর যোগ দিলে কী কী সুবিধা মেলে - তারও নাকি তালিকা শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন আমদাবাদ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের (Amdabad 1 Gram Panchayet) বিজেপি আহ্বায়ক দিলীপ পালের নাম। শুভেন্দুর মতে, তাঁকেও সম্প্রতি দলে টানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দিলীপ পাল দলের প্রতি অনুগত থাকায় তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এখানেই থামেননি তিনি। শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, দিলীপ পালের অবস্থান ‘না’ হওয়ায় তাঁর ছেলে দীপাঞ্জন পালের উপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। ভিলেজ পুলিশ (Village Police) হিসেবে কর্মরত দীপাঞ্জনকে হঠাৎ করেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিরোধী নেতা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা হয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।
আইপ্যাক (I-PAC) নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ নতুন নয়। এবার আগে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, মৃত ভোটারকে জীবিত দেখানোর চেষ্টায় ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট বানাচ্ছে আইপ্যাক! তবে শুধু আইপ্যাক নয়, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন শুভেন্দু।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ক্ষমতায় দেখতে চান তাঁরা। তাঁকে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করতে প্রচারও করেছে পুলিশ। তাই এদের ভোটের কাজে রাখা যাবে না। তিনি বলছেন, অনুমান ফেব্রুয়ারি মাসে এমসিসি (MCC) চালু হবে। তাই হঠাৎ এই দাবি না করে তিন মাস আগেই নির্বাচন কমিশনকে (ECI) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছেন তিনি যাতে কমিশন বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারে। কী ব্যবস্থা নেবেন, সেটা তাদের ব্যাপার।
বিজেপি বিধায়কের পরামর্শ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) মোতায়েন করা যেতে পারে। তবে কিছু কাজ রয়েছে যা পুলিশের, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নয়। সেক্ষেত্রে বাইরের রাজ্য থেকে পুলিশ আনা যেতে পারে। আগে থেকে যাতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারে, সেই কারণেই এখন থেকে তোড়জোড় করার কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।