লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের হাত ঘুরে এই চোরাই তেল বিক্রি করা হচ্ছিল বর্ধমানের এক ব্যবসায়ীর কাছে। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা ও বিহার থেকে মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 January 2026 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি নিখোঁজ ট্রাক এবং চালকের (Truck and Truck Driver) খোঁজ করতে গিয়েই সামনে এল সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য তেল পাচারচক্র (Oil Racket)। হলদিয়া (Haldia) থেকে নেপালের (Nepal) বিরাটনগরের উদ্দেশে যাত্রা করা ২৪ মেট্রিক টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের (Soyabin Oil) ট্রাক মাঝপথে উধাও হওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে এই চক্রের হদিস পায় পুলিশ।
ঘটনাটি গত বছরের ৩০ জুলাইয়ের। পরদিন গন্তব্যে পৌঁছনোর কথা থাকলেও, ট্রাকচালক ভূষণ যাদব আচমকাই পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ভোজ্য তেল নিয়ে ট্রাক নিখোঁজ হওয়ার পর সংস্থার তরফে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া হয়। সেখান থেকেই তদন্তের সুতো গড়িয়ে পৌঁছয় একাধিক রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাচারচক্রে।
লালবাজার (Lalbazar) সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের হাত ঘুরে এই চোরাই তেল বিক্রি করা হচ্ছিল বর্ধমানের এক ব্যবসায়ীর (Burdwan Businessman) কাছে। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা ও বিহার থেকে মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১ লক্ষ টাকা নগদ, যা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সকলেই এখন পুলিশি হেফাজতে।
তদন্তে উঠে এসেছে, জাল নথি ও ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার করে রাজেশ কুমার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ভূষণ যাদব পরিচয়ে ট্রাক পরিবহণের দায়িত্ব নেন। গত ২১ ডিসেম্বর বিহারের নওয়াদা জেলার পাকরিবরণ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেরার সূত্র ধরে পুলিশ পরে বিহারেরই জামা এলাকা থেকে নিখোঁজ ট্রাকটি উদ্ধার করে।
পুলিশের দাবি, দু’জন মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় প্রায় ২১ মেট্রিক টন তেল বিক্রি করা হয়। ওই দুই মধ্যস্থতাকারী প্রীতম দত্ত ওরফে ভাতিজা এবং মইনুদ্দিন আলি মন্ডল ওরফে সোনাই। তাঁদের ২৮ ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার বাসুদেবপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জেরায় ধৃতরা জানান, বর্ধমানের এক ডিলারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই তেল বিক্রি হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হুগলির শ্রীরামপুরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ২ জানুয়ারি দুপুরে শেওড়াফুলি থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজেশ সাউ নামে এক ব্যক্তিকে। পরে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ২১ লক্ষ টাকা।
লালবাজার বলছে, শক্তিগড় টোল প্লাজার সামনে বসেই দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবৈধ তেল ব্যবসা চালাতেন রাজেশ সাউ। পুলিশের মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত পাচারচক্র। দিল্লি রোড দিয়ে যাতায়াতকারী তেলের ট্যাঙ্কারের চালকদের প্রলোভন দেখিয়ে তেল হাতিয়ে নেওয়া হত।
হলদিয়া, বজবজ, আলমপুর-সহ একাধিক এলাকায় রাজেশের এজেন্ট সক্রিয় ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে। ধৃতদের জেরা চলাকালীন নতুন নাম উঠে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।