ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে। চন্দ্রপুরের বাসিন্দা কৃষক রোশন কুড়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, ঋণের বোঝা সামলাতে তিনি কম্বোডিয়ায় গিয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করেন ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 January 2026 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি মোবাইল ভিডিওই (Mobile Video) খুলে দিল একাধিক রাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত (Cross Border) ছাড়িয়ে যাওয়া ভয়াবহ কিডনি পাচারচক্রের (Kidney Racket) পর্দা। মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরের এক ঋণগ্রস্ত কৃষকের ভিডিও ভাইরাল (Farmer's Viral Video) হতেই সামনে আসে এমন এক সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব, যার শিকড় ছড়িয়ে ছিল ভারত থেকে কম্বোডিয়া (India to Combodia) পর্যন্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি কিডনির (Kidney) জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হত ৫০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা। অথচ গরিব দাতাদের হাতে তুলে দেওয়া হত মাত্র ৫ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই চিকিৎসককে (Two Doctors) গ্রেফতার করেছে চন্দ্রপুর পুলিশ। তাঁরা হলেন তামিলনাড়ুর তিরুচির স্টার কিমস হাসপাতালের চিকিৎসক রাজরত্নম গোবিন্দস্বামী এবং দিল্লির চিকিৎসক রবীন্দর পাল সিং।

অভিযুক্ত এক চিকিৎসক
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে। চন্দ্রপুরের বাসিন্দা কৃষক রোশন কুড়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, ঋণের বোঝা সামলাতে তিনি কম্বোডিয়ায় গিয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করেন ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
তদন্তে উঠে আসে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক পাচারচক্র (Cross Border Kidney Racket), যার মাথায় ছিল বিভিন্ন এজেন্ট ও চিকিৎসক। পুলিশের দাবি, দালালরা দরিদ্র মানুষদের অল্প টাকার লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলত। পরে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বেআইনি প্রতিস্থাপন করা হত।
চন্দ্রপুরের পুলিশ সুপার সুধর্ষণ মুম্মাকা জানান, “তদন্ত এখন আর স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। মোবাইল কল ডিটেইলস, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি জটিল নেটওয়ার্কের ছবি স্পষ্ট হয়েছে - যেখানে এজেন্ট, দাতা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে গভীর যোগ রয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল লেনদেন খতিয়ে দেখে এমন আরও হাসপাতালের খোঁজ চলছে, যেগুলি এই বেআইনি অস্ত্রোপচারের ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
তদন্তে উঠে এসেছে, রোশন কুড়ে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ‘কিডনি ডোনার কমিউনিটি’ পেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর কম্বোডিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মুম্মাকা জানান, “মহাজনদের সূত্র ধরেই আমরা সোলাপুরের এক ভুয়ো চিকিৎসক কৃষ্ণার খোঁজ পাই। তিনি নিজেও এই চক্রের অংশীদার ছিলেন। পরে কমিশনের বিনিময়ে কম্বোডিয়ায় ১০–১২ জনের কিডনি অপসারণের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ।” পুলিশের দাবি, তিরুচির যে হাসপাতালে রাজরত্নম গোবিন্দস্বামী কর্মরত ছিলেন, সেখানে একাধিক বেআইনি কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রমাণ মিলেছে।
চন্দ্রপুর পুলিশের মতে, এটি কেবল অপরাধ নয়, গরিব মানুষের ঋণের বোঝা আর চিকিৎসার সুযোগকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এক নিষ্ঠুর মানব পাচার ব্যবস্থার নগ্ন ছবি। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই এই চক্রের বিস্তার আরও গভীর ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।