চাপে পড়ে গিরধারী লাল সাহু পরে একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তিনি আসলে এক বন্ধুর বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়েই কথা বলছিলেন।
.jpeg.webp)
রেখা আর্য এবং গীরধারী লাল সাহু
শেষ আপডেট: 3 January 2026 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ড সরকারের (Uttarakhand Govt) মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী রেখা আর্যের (Rekha Arya) স্বামী গিরধারী লাল সাহুর (Girdhari lal Sahu) একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়াল রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। অভিযোগ, বিহারের মেয়েদের (Bihar Women) ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিয়ে (Marriage) করা যায় - এমন মন্তব্য করেন তিনি। ঘটনার জেরে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিহার রাজ্য মহিলা কমিশনের তরফেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে আলমোড়ায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে গিরধারী লাল সাহু এই মন্তব্য করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে (Viral Video) তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বয়স হয়ে গেলেও যদি বিয়ে না হয়, বিহার থেকে মেয়ে এনে দেব… ২০-২৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।” একই সঙ্গে তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, “আমার সঙ্গে চলুন, বিয়ে দিয়ে দেব।”
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধী কংগ্রেস একে নারীদের প্রতি চরম অবমাননা বলে আখ্যা দেয়। পাশাপাশি বিহার রাজ্য মহিলা কমিশনও (Bihar Women Commission) বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
চাপে পড়ে গিরধারী লাল সাহু পরে একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তিনি আসলে এক বন্ধুর বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়েই কথা বলছিলেন। “আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি,” বলেন তিনি।
এই বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে বিজেপি (BJP)। দলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, গিরধারী লাল সাহুর সঙ্গে দলের কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। বিজেপির রাজ্য মিডিয়া ইনচার্জ মনবীর সিং চৌহান বলেন, “নারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘৃণ্য মানসিকতা ও মন্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা করি।”
তবে কংগ্রেসের দাবি, বিষয়টি এত সহজে এড়িয়ে যাওয়ার নয়। রাজ্য কংগ্রেস (Congress) সভাপতি গণেশ গোদিয়াল বলেন, “এই মন্তব্য ভারতের সমস্ত নারীর অপমান - সে বিহারের হোক, কেরলের হোক বা উত্তরাখণ্ডের।” তাঁর দাবি, বিজেপির উচিত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
কংগ্রেস মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি জ্যোতি রাউতেলা বলেন, “যাঁর স্ত্রী মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী, তাঁর স্বামীর মুখে এমন মন্তব্য লজ্জাজনক। এই ধরনের মানসিকতা নারী পাচার, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক ব্যাধিকে উস্কে দেয়।”
এর মধ্যেই বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন জানিয়েছে, গিরধারী লাল সাহুকে নোটিস (Notice) পাঠানো হবে। কমিশনের চেয়ারপার্সন অপ্সরা বলেন, “এই মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তাঁর মানসিক দৈন্য প্রকাশ করে। একজন মন্ত্রীর স্বামী হয়ে কীভাবে তিনি এমন কথা বলতে পারেন?”
ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখনও পর্যন্ত গিরধারির স্ত্রী তথা মন্ত্রী রেখা আর্য কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।