ইন্দ্রনীল সাফ জানান, বিজেপি বুঝে গেছে হিন্দুত্বের তাস খেলে বাংলাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবেন না।

ইন্দ্রনীল সেন
শেষ আপডেট: 6 June 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘার জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Dham) উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছিলেন, রথের আগে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, রাজ্যের মানুষ পাবেন জগন্নাথদেবের প্রসাদ - গজা ও পেঁড়া। আগামী ১৭ জুন থেকে এই প্রসাদ বিতরণ শুরু হবে। কিন্তু বিষয়টিকে 'হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত' বলেই মনে করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই নিয়ে তিনি সাংবাদিক বৈঠক থেকে মন্তব্যও করেন। তার পাল্টা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)।
রাজ্যজুড়ে প্রসাদ পৌঁছে দিতে বিশেষ প্যাকেট বানানো হচ্ছে। তাতে থাকবে মন্দিরের ছবি। শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন, হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত দিতেই এই মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা মানতে রাজি নন ইন্দ্রনীল। তিনি পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে কার্যত জবাব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁর বক্তব্য, ''শুধু হিন্দুরা প্রসাদ পাবেন, বা কোনও হিন্দু ডিলাররা প্রসাদ বিতরণ করবেন, এরকম কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই। আমি এই ধরনের মন্তব্যের ধিক্কার জানাই।''
রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, তারাপীঠ থেকে কঙ্কালীতলা, তারকেশ্বর থেকে দক্ষিণশ্বর, নানা মন্দিরে সৌন্দর্যায়নের কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই প্রচেষ্টাকে আড়াল করতেই বিজেপি এখন ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে। জগন্নাথ দেবের প্রসাদ প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীলের বক্তব্য, বাংলার বহু মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ গ্রহণ করার। সেই ভাবনা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হিন্দু-মুসলমান নয়, প্রতিটি পরিবার এই প্রসাদ পাবে, এটাই সরকারের উদ্দেশ্য।
এক কথায়, হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করার যে অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারী তুলেছেন তা নস্যাৎ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। ইন্দ্রনীল সাফ জানান, বিজেপি বুঝে গেছে হিন্দুত্বের তাস খেলে বাংলাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবেন না। তাই নানারকম কুৎসা রটানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই প্রসাদ আসলে পশ্চিমবঙ্গের সব বাড়িতে যাবে। রেশন ডিলারদের মাধ্যমে যাবে। প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে যাবে। গোটা বিষয়টি ফুড কোয়ালিটি ইন্সপেক্টররা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।
খাদ্য দফতরের প্রকল্প 'দুয়ারে রেশন'-এর মাধ্যমেই এই বাক্সগুলি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। যাঁরা এই রেশন ব্যবস্থার মধ্যে নেই, তাঁদের বাড়িতে প্রসাদ পৌঁছে দিতে আলাদাভাবে বিতরণের পদ্ধতি আগে থেকেই বিডিওদের ঠিক করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।