উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টাটা কারখানার বিস্তীর্ণ মাঠে হয়েছিল সেই আয়োজন। তার ঠিক দশ দিনের মাথায় ফের সিঙ্গুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee, Singur rally) সভা মানেই শুধু একটি মঞ্চ, একটি ভিড়, এমনটা আর থাকছে না। ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভার দিন হুগলি জেলাজুড়ে এক অভিনব আয়োজন করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, জেলার প্রতিটি ব্লক সদর, প্রতিটি পঞ্চায়েতে হবে আলাদা আলাদা জমায়েত। কার্যত একদিনে হুগলিতে বসতে চলেছে শতাধিক সভা। নাম, ‘বাড়ি উৎসব’ (Home Festival, Hooghly)।
রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদল সূত্রের খবর, ওই দিন সিঙ্গুর থেকে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার হাতে ‘আমার বাড়ি’ প্রকল্পের অনুমোদন তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই পঞ্চায়েত স্তরে ছোট ছোট উপভোক্তা সভার পরিকল্পনা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও তার প্রভাব পড়বে রাজনৈতিক ময়দানেও, এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্নার কথায়, “আমার বাড়ি প্রকল্প বাংলার আত্মসম্মানের প্রতীক। কেন্দ্র টাকা দেয়নি, বরং রাজ্যকে চাপে ফেলতে চেয়েছে। সেই বাধা পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানুষের মাথার উপর ছাদ নিশ্চিত করেছেন। তাই চাইছি, সবাই যেন একসঙ্গে বাড়ির অনুমোদন পান।” তাঁর দাবি, দূরে গিয়ে সভা শোনার বদলে মানুষ নিজের পঞ্চায়েত অফিস থেকেই নতুন বাড়ির ছাড়পত্র হাতে পাবেন।
একই সুর শোনা যাচ্ছে হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায়ের গলাতেও। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী গোটা রাজ্য থেকে লোক এনে সভা করলেন। শিল্পের কথা বলে সভায় লোক জড়ো করে শোনালেন কথাশিল্প। আমাদের নেত্রী ভাঁওতা দিতে চান না। মানুষের কাছে কাজ পৌঁছে দিতে চান।” তাঁর মতে, সিঙ্গুরে না এনে মানুষকে নিজের এলাকাতেই অংশগ্রহণের সুযোগ দিতেই এই বিকেন্দ্রীকৃত সভার ভাবনা।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি পঞ্চায়েতে অন্তত ৫০০ জন উপভোক্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই তৈরি থাকবে ‘আমার বাড়ি’ প্রকল্পের অনুমোদন ও আর্থিক বরাদ্দের নথি। একই সঙ্গে প্রতিটি সভাস্থলে সিঙ্গুরের মূল অনুষ্ঠান বা রাজ্যস্তরের সভার লাইভ টেলিকাস্ট দেখানোর ব্যবস্থাও থাকবে।
পরিকল্পনাকারীদের কথায়, “সেদিন হুগলি নয়, গোটা বাংলায় একসঙ্গে বাড়ি পাওয়ার উৎসবে মাতবে।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টাটা কারখানার বিস্তীর্ণ মাঠে হয়েছিল সেই আয়োজন। তার ঠিক দশ দিনের মাথায় ফের সিঙ্গুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার সেখান থেকেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আরও ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে টাকা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে ওই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মোদীর 'জঙ্গল-রাজের' জবাবে কী বলেন, তা নিয়েও সব মহলে কৌতূহল রয়েছে।