“এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। পা ফেললেই কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগছে, দেখলে বোঝা যাচ্ছে, ওগুলো পোড়া হাড়। গোডাউনের ভিতরে এত তাপমাত্রা ছিল যে লোহার বিম পর্যন্ত গলে গিয়েছে। সেখানে চামড়া বা শরীর যে ছাই হয়ে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদের অগ্নিদগ্ধ কারখানায় (Kolkata, Anandpur Factory Fire Update) মৃত্যুর হিসাব এখনও ধোঁয়াশায়। স্থানীয়দের দাবি, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন নিখোঁজ।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত তিনটি দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে। কিন্তু অসমর্থিত সূত্রের দাবি, মৃতের সংখ্যা ৮। আরও অন্তত ১৭ জন নিখোঁজ। আশঙ্কা ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে, নিখোঁজদের অনেকেরই হয়তো আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে।
সেই আশঙ্কাকে আরও ভয়াল করে তুলছে উদ্ধারকারীদের অভিজ্ঞতা। অগ্নিদগ্ধ গোডাউনে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে দমকল কর্মীদের অনেকের পায়ে ঠেকছে পোড়া হাড়ের টুকরো!
এক দমকলকর্মীর গলায় চাপা শিউরে ওঠা আতঙ্ক, “এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। পা ফেললেই কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগছে, দেখলে বোঝা যাচ্ছে, ওগুলো পোড়া হাড়। গোডাউনের ভিতরে এত তাপমাত্রা ছিল যে লোহার বিম পর্যন্ত গলে গিয়েছে। সেখানে চামড়া বা শরীর যে ছাই হয়ে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক।”
এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের দেহ আদৌ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হচ্ছে গভীর সংশয়। এদিকে উদ্ধারকাজ দেরিতে শুরু হওয়া নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, সময় থাকলেও কেন রাতেই উদ্ধার শুরু করা হল না?
এই প্রসঙ্গে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ব্যাখ্যা, “এখানে যে নির্মাণ ছিল, তা কেটে কেটে অনেক জায়গায় ঢুকতে হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ছিল। রাতে গোডাউনের ভিতরে উত্তাপ ছিল অত্যধিক। সেই কারণেই রাতের বেলা উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।”
স্থানীয় সূত্রে আগুন লাগার মুহূর্তের বর্ণনা আরও আতঙ্কজনক। রবিবার রাত দেড়টা। চারপাশ নিস্তব্ধ। আচমকাই আগুন লাগে পাশের একটি ডেকরেটার্স সংস্থার গুদামে। গুদামের গা ঘেঁষেই ছিল মোমো তৈরির কারখানা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে তেল, গ্যাস ও বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। শুরু হয় প্রাণপণ লড়াই। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, আগুন ততই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।
সোমবার দমকল আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই গোডাউনে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে এসে সেই কথাই কার্যত স্বীকার করেন দমকলমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “প্রচুর জায়গায় প্রচুর কারখানা রয়েছে। অনেকে লাইসেন্স নিয়ে করছেন, অনেকে বেআইনিভাবে করছেন। এখনই বলতে পারব না, ওদের কাছে কী কাগজপত্র ছিল। যদি বেআইনিভাবে হয়ে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে নিখোঁজদের পরিবারগুলির চোখে এখন একটাই প্রশ্ন, প্রিয়জনেরা বেঁচে আছেন তো?
পোড়া গন্ধ, ভারী বাতাস, ছাইচাপা গোডাউন আর পায়ের তলায় পোড়া হাড়! আনন্দপুর যেন এক ভয়াল জতুগৃহ!