গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে বললেন, “এ বার দেখলাম, বইমেলা থেকেই অনেকে বই কিনে অন্যকে উপহার দিচ্ছেন। মাঝখানে এই ছবিটা যেন হারিয়ে গিয়েছিল।"

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে আয়োজন করে পাণ্ডুলিপি। আর সেই আয়োজনেই ঢুকলেই চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত চমক। টেবিলের উপর রাখা পুরনো এক টিনের বাক্স। শরীর জুড়ে চাপ চাপ বাদামি মরচে। দেখে মনে হতে পারে, বহুদিনের পরিত্যক্ত কিছু। কিন্তু আদতে তিনি ভিভিআইপি। কারণ মরচে সরিয়ে তাকালেই ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে জীবনানন্দ দাশের (Jibanananda Das) অমূল্য পাণ্ডুলিপি (Manuscript )। কবির হাতের লেখা থেকে ছাপা অক্ষরে ধরা পড়েছে সময়, স্মৃতি আর নিঃশ্বাস।
এই টিনের বাক্সই এখন কলকাতা বইমেলায় (Kolkata Book Fair) ‘পুনশ্চ’ প্রকাশনার স্টলের প্রধান আকর্ষণ। নতুন বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকদের ভিড় জমছে এই অমূল্য সংগ্রহ দেখতেই। শুধু বই কেনা নয়, পাণ্ডুলিপি-সহ আস্ত টিনের বাক্সের সঙ্গে সেলফি তোলাও হয়ে উঠেছে বাড়তি প্রাপ্তি। টিনের বাক্সের উপর সাজানো নতুন বই পাণ্ডুলিপির সমগ্র কবিতা। কবির ১২৫তম জন্মশতবর্ষ স্মরণে প্রকাশিত এই সংকলন বইপ্রেমী মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘পুনশ্চ’ প্রকাশনার স্নেহা নায়েক বললেন, “জীবনানন্দ গবেষক গৌতম মিত্র এই পাণ্ডুলিপিগুলি সংগ্রহ করেছেন এবং বইটির সম্পাদনাও তাঁর। অসাধারণ এক সংগ্রহ। বইমেলার শুরু থেকেই পাঠকদের খুব ভাল সাড়া পাচ্ছি। তাই পাণ্ডুলিপি-সহ টিনের বাক্সটাই আমরা সবার সামনে তুলে ধরেছি।”
এ বছরের বইমেলায় শুধু কবিতাই নয়, নজর কাড়ছে গবেষণাভিত্তিক বইও। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ছে ইতিহাস ও সাহিত্যের নতুন গবেষণার দিকে।
গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে বললেন, “আমরা চাই কলকাতা বইমেলায় সব ধরনের বই থাকুক। কারণ লক্ষ লক্ষ পাঠক আসেন, আর প্রত্যেকের চাহিদা আলাদা। গবেষণার কাজ বাড়ছে—এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এ বার দেখলাম, বইমেলা থেকেই অনেকে বই কিনে অন্যকে উপহার দিচ্ছেন। মাঝখানে এই ছবিটা যেন হারিয়ে গিয়েছিল। বইয়ের চেয়ে ভাল বন্ধু আর কেউ নেই। ভিড় বাড়ছে, আমরা আশাবাদী—এ বার বিক্রিও বাড়বে।”
মরচে ধরা টিনের বাক্সে বন্দি জীবনানন্দের হাতের লেখা থেকে গবেষণার নতুন বই—সব মিলিয়ে এ বছরের বইমেলা যেন আবার বইকে ফিরিয়ে দিচ্ছে তার প্রাপ্য কেন্দ্রবিন্দুতে।