রাত নামলেও উদ্ধার থামেনি— জেসিবি, অস্থায়ী আলোয় চলছে কাজ।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা। ১৭ ঘণ্টা পরেও আনন্দপুরের (Anandapur , Kolkata) নাজিরাবাদের কারখানায় নিভে যায়নি আগুন (Fire)। ধিকিধিকি করে জ্বলছে ধ্বংসস্তূপ। ঘন কালো ধোঁয়ার চাদরে এখনও ঢেকে ভিতরের অংশ। উদ্ধারকাজ যাতে থমকে না যায়, সে জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে একাধিক অস্থায়ী ইলেকট্রিক খুঁটি। দেওয়াল ভাঙার কাজে নামানো হয়েছে জেসিবিও।
সরকারি সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ তিন জন। কিন্তু পোড়া কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে স্থানীয়দের ফিসফাস, আতঙ্কিত চোখ আর ছাইচাপা ধ্বংসস্তূপ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জতুগৃহে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নিখোঁজের সংখ্যাও ১৩ ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা। ইতিমধ্যে অন্তত ২০ জন নিখোঁজের পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে।
এদিকে গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে টুইট করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, 'বিভিন্ন সূত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে, আনন্দপুরের এই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৩০ জনের কাছাকাছি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে! কিন্তু রাজ্যের অপদার্থ প্রশাসন এবং দলদাস পুলিশ বাহিনী এখন ব্যস্ত সমস্ত কিছু লুকিয়ে ফেলতে!' দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন সুকান্ত।
প্রসঙ্গত, এদিন দুপুরে ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তবে বিকেল পর্যন্ত দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে দেখা যায়নি।
শহর কলকাতায় আরও একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেল, আর যাঁর তৎপরতা এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ছিল — রাজ্য সরকারের সেই অপদার্থ দমকল মন্ত্রী, তিনি কোথায় দম নিচ্ছেন তার কোনও হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া গেল না!
বিভিন্ন সূত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে, আনন্দপুরের এই… pic.twitter.com/89mwRm6aR9— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) January 26, 2026
তবে এখনই মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্যে নারাজ স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ। সোমবার দুপুর থেকে ঘটনাস্থলেই রয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে সায়নী বলেন, “আগুন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ভিতরে ক’জন আটকে ছিলেন, ক’জন মারা গিয়েছেন— ধোঁয়া পুরোপুরি না কাটলে এখনই নিশ্চিত করে বলা ঠিক নয়। উদ্ধার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।”
সূর্য ডুবে গেলেও উদ্ধার যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য অস্থায়ী আলোয় কাজ চলছে বলে জানান সায়নী। দ্রুত আগুন নেভাতে কারখানার কিছু অংশ ভাঙার প্রয়োজন হয়েছে, সেই কারণেই জেসিবি আনা হয়েছে।
রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ নিস্তব্ধতা ভেঙে প্রথম আগুন লাগে পাশের একটি ডেকরেটার্স সংস্থার গুদামে। গুদামের গা ঘেঁষেই ছিল মোমো তৈরির কারখানা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। তেল, গ্যাস ও দাহ্য সামগ্রী দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছয় দমকল। শুরু হয় প্রাণপণ লড়াই। কিন্তু সময় যত গড়ায়, আগুন ততই ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
কর্মীদের দাবি, ওই কারখানায় মোমো তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ পাম তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলি বারুদের মতো ফেটে পড়ে। অভিযোগ, পাশের ডেকরেটার্স গুদামেও দাহ্য সামগ্রী রাখা হত। বারবার সরাতে বলা হলেও মালিকপক্ষ কর্ণপাত করেনি। সেই অবহেলাই মুহূর্তে আগুনকে সর্বগ্রাসী করে তোলে বলে দাবি।
যদিও এসওপি মানা হয়েছিল কি না, তা প্রশাসন খতিয়ে দেখবে বলে জানান সায়নী। আপাতত অগ্রাধিকার উদ্ধারকাজ। এলাকায় মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়দের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।