একসময় পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল মানেই বনধ, আতঙ্ক আর মাওবাদী পোস্টার।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাদা কাগজ, লাল কালির লেখা। নীচে বড় অক্ষরে, ‘মাওবাদী’ (Maoist posters)। সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day) সকালে এই পোস্টার ঘিরেই এক মুহূর্তে দেড় দশক আগের জঙ্গলমহলের ((Jangalmahal) স্মৃতি ফিরে এল বাঁকুড়া জেলায় (Bankura)। তালডাংরা ও ওন্দা থানা এলাকার একাধিক জায়গায় গাছের গুঁড়ি থেকে বাসস্টপেজের দেওয়াল— সর্বত্রই চোখে পড়ে ওই নামাঙ্কিত পোস্টার।
একসময় পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল মানেই বনধ, আতঙ্ক আর মাওবাদী পোস্টার। তবে ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর জামবনীর বুড়িশোলের জঙ্গলে যৌথবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মাওবাদী নেতা মাল্লেজুল্লা কোটেশ্বর রাওয়ের মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে শান্তির পথে ফিরেছিল এলাকা। সেই আবহেই এদিনের ঘটনায় শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়াল স্থানীয়দের মধ্যে।
পোস্টারগুলিতে নিহত মাওবাদী নেতা হিডমাকে ‘শ্রদ্ধা’ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ছত্তীসগড়ে নিরীহ আদিবাসীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। মাওবাদী সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি এবং ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের’ বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের ডাকও রয়েছে ওই লেখায়।
খবর পেয়ে সকালেই পুলিশ পোস্টারগুলি খুলে নেয়। প্রশাসনের প্রাথমিক দাবি, এই পোস্টারের সঙ্গে মাওবাদীদের সরাসরি কোনও যোগ নেই। পুলিশের অনুমান, এলাকায় ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়াতেই মাওবাদীদের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় কেউ বা কারা এই পোস্টার সাঁটিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন মণ্ডলের কথায়, “আমরা নিজেরা দেখিনি। সকালে কাজ করছিলাম। পরে দেখি পুলিশ এসে পোস্টারগুলো খুলে নিয়ে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামরাজু জেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন মাওবাদীদের শীর্ষনেতা মাডবী হিডমা। মারেদুমিলির জঙ্গলে তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ। সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হিডমার নাম ঘিরে মাওবাদী প্রচারের খবর মিলেছে।
বাঁকুড়ার ঘটনায় আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে এমন পোস্টার জঙ্গলমহলের পুরনো আতঙ্ককেই নতুন করে উসকে দিল— সেটাই মানছেন স্থানীয়রা।