শাসকদলের প্রশ্ন, “এ কি নিছক ভুল, না কি বাঙালির ইতিহাস ও আবেগের প্রতি চূড়ান্ত অবহেলা?”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণতন্ত্র দিবসে (Republic Day) দিল্লির কর্তব্যপথে গর্বের মুহূর্তেই অস্বস্তির ছায়া! দেশের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ট্যাবলো প্রদর্শনের সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra ,Mantagini) নাম ভুল উচ্চারণ করে ‘মান্তাগিনি হাজরা’ বলায় তীব্র ক্ষোভ ছড়াল বাঙালি সমাজে। কেন্দ্রীয় মঞ্চ থেকে এই ভুল উচ্চারণ সম্প্রচারিত হওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে তা ভাইরাল হয় এবং শুরু হয় প্রবল সমালোচনা ও ট্রোল।
কুচকাওয়াজ চলাকালীন বাংলা ভাষায় ট্যাবলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে উপস্থাপিকা শহিদ মাতঙ্গিনীর নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করেন। ভুলটি শুধরে নেওয়ার কোনও চেষ্টাই করা হল না কেন, উঠছে সেই প্রশ্নও। সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। পরে এই ভিডিও প্রকাশ করে সোশ্যাল মাধ্যমে মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল (Trinamool)। শাসকদলের প্রশ্ন, “এ কি নিছক ভুল, না কি বাঙালির ইতিহাস ও আবেগের প্রতি চূড়ান্ত অবহেলা?”
শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরা— যিনি ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ৭২ বছর বয়সে তামলুক থানার সামনে হাতে তেরঙ্গা নিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন। তিনি বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর প্রতীক। ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি দিতে দিতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া সেই মাতঙ্গিনী আজও বঙ্গবাসীর কাছে সাহস ও আত্মবলিদানের প্রতিচ্ছবি।
.@BJP4India shouts “Poriborton.” But what they actually mean is PROHIBITION, on our identity, our dignity, and our rights.
🚫 Ban our culture
🚫 Ban our food
🚫 Ban our language
🚫 Ban our voting rights
🚫 Ban our faith
🚫 Ban our love
Their contempt for Bengal was on full… pic.twitter.com/xzjAKxCQVk— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 26, 2026
এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির থিমে দেশের নানা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হলেও, মাতঙ্গিনীর নামভ্রান্তি গোটা অনুষ্ঠানকেই বিতর্কের কেন্দ্রে এনে ফেলেছে। তৃণমূলের অভিযোগ,, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসকে বারবার প্রান্তিক করে রাখার এক ধারাবাহিক উদাহরণ।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সংস্কৃতিকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের আইকনদের নাম ও পরিচয় নিয়ে এমন অসতর্কতা শুধু অসম্মানজনকই নয়, তা জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠানের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করে। গোটা ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আয়োজকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ উঠছে জোরালোভাবে।
প্রজাতন্ত্র দিবস যেখানে সমগ্র দেশের গর্ব ও ঐক্যের প্রতীক, সেখানে মাতঙ্গিনীর মতো এক শহিদের নাম ভুল উচ্চারণ, সেই ঐক্যের বার্তাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল বলে মনে করছেন অনেকেই। এখন দেখার তৃণমূলের কটাক্ষের জবাবে কেন্দ্র বা পদ্মশিবির কী বলে!