জতুগৃহে রূপ নেওয়া কারখানায় পোড়া গন্ধে ভাসছে আনন্দপুর! ফায়ার অডিট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝলসানো দেওয়াল, কালো ছাই আর পোড়া গন্ধে ভারী বাতাস। রবিবার সকালে আনন্দপুরের নাজিরাবাদের (Anandapur Fire, Kolkata) যে জায়গাটা ছিল কর্মচঞ্চল কারখানা, মঙ্গলবার দুপুরে তা যেন এক ভয়াল জতুগৃহ। অথচ ঠিক কতজনের প্রাণ গিয়েছে—৩৬ ঘণ্টা পরেও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না প্রশাসন।
এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই একে একে সামনে আসছে ভয়াবহ অব্যবস্থার ছবি। অগ্নি নির্বাপণের কোনও পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও বিপদের জেনেও গোডাউনে রাখা হয়েছিল দাহ্য পদার্থের স্তূপ, এমনই অভিযোগ উঠছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি কোনওদিন এই গোডাউনের ‘ফায়ার অডিট’ হয়েছিল?
স্থানীয়দের দাবি আরও বিস্ফোরক। মোমো তৈরির কারখানার আড়ালে চলত অবৈধ কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরির কাজ। সেই কারণেই প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত করা ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি জলাশয় বুজিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল গোডাউন, এই অভিযোগও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই জতুগৃহকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রশাসনিক নজরদারির গাফিলতি আর চরম অব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, রবিবার রাত দেড়টা। চারপাশ নিস্তব্ধ। আচমকাই আগুন লাগে পাশের একটি ডেকরেটার্স সংস্থার গুদামে। গুদামের গা ঘেঁষেই ছিল মোমো তৈরির কারখানা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। শুরু হয় প্রাণপণ লড়াই। কিন্তু সময় যত গড়ায়, আগুন ততই ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
সোমবার দমকল আধিকারিকরা স্পষ্ট করে জানান, ওই গোডাউনে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে এসে সেই কথাই কার্যত স্বীকার করেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর কথায়, “প্রচুর জায়গায় প্রচুর কারখানা রয়েছে। অনেকে লাইসেন্স নিয়ে করছেন, অনেকে বেআইনিভাবে করছেন। এখনই বলতে পারব না, ওদের কাছে কী কাগজপত্র রয়েছে। যদি বেআইনিভাবে হয়ে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জলাশয় বুজিয়ে গোডাউন তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে অবশ্য পাশ কাটিয়ে যান মন্ত্রী। বলেন, “এটা ভূমি দফতর দেখবে। যাঁদের দেখার দায়িত্ব, তাঁরা দেখবে।”
তবে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে কোনও রাখঢাক রাখেননি তিনি। সুজিতের সাফ কথা, “ডিজির সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার মতো কিছুই ছিল না। আমাদের ফায়ার অডিট হয়। এখানে ফায়ার অডিট হয়েছিল কিনা, সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে। ফরেনসিক টিম আসবে। এফআইআর হবে, তদন্তও হবে।”
মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেই মালিকের কোনও হদিস মেলেনি।
সবকিছুর মাঝেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা। তাঁদের আক্ষেপ, চরম অব্যবস্থা আর নজরদারির গাফিলতির মূল্য দিতে হল অনেকগুলো প্রাণ দিয়ে।