পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “এটি একটি সুসংগঠিত অনলাইন প্রতারণা চক্র। আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

গ্রাফিক্স-এআই।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের নামে প্রতারণার পর্দাফাঁস (Fake Hotel Booking Scam)। ভুয়ো ওয়েবসাইট বানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানা (Web developer arrested)।
ধৃতের নাম হুজাইফা শাব্বির দরবার (৪১)। পুণের কন্ধওয়া খুর্দ এলাকার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি পেশায় ওয়েব ডেভেলপার বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃতকে জেরা করে চক্রের বাকিদের হদিস জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের মে মাসের আগে ও পরে অভিযুক্ত দেশের নামী-দামি হোটেলের নামে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে। সেই সব সাইটে হোটেল বুকিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, মোট ৮৩ জন প্রতারিত হয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৮০৩ টাকা।
এই প্রতারণা চক্রের শিকার হওয়া মানুষজনের একজন কলকাতার পুর্ব বেহালার বাসিন্দা দেবজ্যোতি মল্লিক। অভিযোগ, গত ৫ মে পুরীর একটি হোটেলে ঘর বুক করার জন্য তিনি একটি ওয়েবসাইটে ঢোকেন। প্রথমে মাত্র ১ টাকা পাঠাতে বলা হয় ‘বুকিং ভেরিফিকেশন’-এর নামে। পরে একের পর এক অজুহাতে ইউপিআই ও কিউআর কোডের মাধ্যমে আরও টাকা পাঠাতে বলা হয়। নিজেকে হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার ও সিনিয়র ম্যানেজার বলে পরিচয় দেওয়া দু’জনের কথায় বিশ্বাস করে মোট ৪৪৮০ টাকা পাঠান তিনি। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর আর কোনও বুকিং কনফার্মেশন আসেনি। ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টাল ও স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান তিনি।
তদন্তে নেমে সাইবার থানার আধিকারিকরা ব্যাঙ্ক, ডোমেন সার্ভিস প্রোভাইডার এবং টেলিকম সংস্থার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ভুয়ো ওয়েবসাইটটি একটি আন্তর্জাতিক ডোমেন সংস্থায় হোস্ট করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই একটি ই-মেল আইডি ও মোবাইল নম্বর চিহ্নিত হয়। আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে শেষ পর্যন্ত পুণেতে অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ।
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পুণের কন্ধওয়া থানার সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে অভিযুক্তের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং সার্ভারের র্যাম ডাম্প সংবলিত একটি পেন ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জেরায় নিজের দোষ স্বীকার করেছে হুজাইফা। পরে কলকাতার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “এটি একটি সুসংগঠিত অনলাইন প্রতারণা চক্র। আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”