কসবায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতেও জড়িয়ে পড়েন ডিএসও-র কর্মীরা। ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে।

এসএসসি ভবনে বিক্ষোভে চাকরিহারারা।
শেষ আপডেট: 25 June 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ-সহ তিন দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার সল্টলেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) অফিসের সামনে বিক্ষোভ অবস্থানে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি অধিকার (Group C and D) মঞ্চের সদস্যরা। থালা, বাটি হাতে এদিন বিক্ষোভে শামিল হন তাঁরা।
অন্যদিকে একই দাবিতে এদিন কসবায় বিক্ষোভ দেখাল এসইউসিআইয়ের ছাত্র সংগঠন ডিএসও (DSO)। কসবায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতেও জড়িয়ে পড়েন ডিএসও-র কর্মীরা। ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে।
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের আস্ত প্যানেল বাতিল করেছে হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। যার জেরে চাকরিহারা প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি মঞ্চের দাবি, সার্টিফায়েড ক্যান্ডিডেট লিস্ট প্রকাশ করতে হবে, যাতে দেখা যায় কোন প্রক্রিয়ায় ও কারা নিয়োগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার ওএমআর শিটের স্ক্যান কপি এসএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং যারা ইতিমধ্যেই শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছিলেন কিন্তু পরে বরখাস্ত হয়েছেন, তাঁদের পুনর্বহাল করতে হবে।
মঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, কোনও প্রমাণ ছাড়া বহু চাকরিপ্রাপ্তকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ মাসের পর মাস ধরে আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায়। তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই অবস্থায় ফের তাঁদের আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
চলতি বছরের মে মাসে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো গ্রুপ সি প্রার্থীদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি-দের ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় আইনি লড়াই। রাজ্যের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করে একাধিক পক্ষ। তাদের দাবি, এই ভাতা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এরপরই গত শুক্রবার আবার কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আপাতত আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
এবার সমস্যার সুরাহা চেয়ে এসএসসি ভবনের সামনে থালা, বাটি হাতে অবস্থানে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডির কর্মীরা।