পুলিশের এক কর্তা বলেন, যে হারে পরকীয়া বাড়ছে তাতে তো এখনই এই প্রবণতা বন্ধ না করা গেলে সামজিক সঙ্কট তৈরি হবে।

এ আই গ্রাফিক্স।
শেষ আপডেট: 24 June 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জানুয়ারি থেকে মাস, গত ৫ মাসে নিখোঁজ ৫৩৬ জন! এদের মধ্যে ৫০০ জনই গৃহবধূ। না, অপহরণ নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিখোঁজের ডায়েরি দায়ের হয়েছে। তদন্তে নেমে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে পরকীয়ার প্রসঙ্গ (Extramarital Affairs)!
গত মাস পাঁচে এমনই পরিসংখ্যান বারাসত (Barasat) পুলিশ জেলার। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশের কর্তারাও। পুলিশের এক কর্তা বলেন, যে হারে পরকীয়া বাড়ছে তাতে তো এখনই এই প্রবণতা বন্ধ না করা গেলে সামজিক সঙ্কট তৈরি হবে।
পুলিশ কর্তার এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সহমত সমাজতাত্ত্বিকরাও। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল নির্ভরতার পাশাপাশি দাম্পত্যের সঠিক যত্নের অভাবেই সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ ঘটছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, যাঁরা বাড়ি ছেড়ে অন্যের হাত ধরে পালিয়েছেন তাঁদের অনেকেরই স্বামী হয় ভিনরাজ্যে কর্মরত বা কাজের ব্যস্ততায় বাড়িতে স্ত্রীদের যথাযথ সময় দিতে পারেন না। তারই জেরে দাম্পত্য জীবনে ফাটল আর সেই সূত্র ধরেই মোবাইলের মাধ্যমে অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে গৃহবধূদের সম্পর্ক গড়ে উঠছে। পরিণামে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বহু নারী।
পুলিশ সূত্রের খবর, নিখোঁজ গৃহবধূদের মধ্যে অনেকেরই সন্তান রয়েছে। তাদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ ঠিকাদার, আবার কেউ প্রতিষ্ঠিত যুবকদের সঙ্গে পালিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন বাড়ি ফিরলেও, অনেকেই নিজেই বাড়ি ফিরে যেতে চাইছেন না। এক পুলিশ কর্তার কথায়, "এক্ষেত্রে জোরাজুরি করেও লাভ হচ্ছে না। উল্টে জবাব আসছে, আমরা প্রাপ্তবয়স্ক, নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারি।"
পুলিশের এক কর্তা বলেন, নিখোঁজের তালিকায় হাতে গোনা কয়েকজন তরুণী ও নাবালিকাও রয়েছে। তবে সেই সংখ্যাটা খুবই নগন্য। বরং পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূদের বাড়ি ফিরিয়ে আনা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরিস্থিতির জন্য দাম্পত্য সম্পর্কের ফাটলকেই দায়ী করছেন তদন্তকারীরা।
কোন পথে সমাধান? নাকি সময়ের সঙ্গে এই প্রবণতা আরও বাড়বে? সময়েই মিলবে সদুত্তর।