প্রশ্ন উঠছে— রাজ্যপালের দফতর কী ভাবে বিধানসভার সদস্যদের বর্তমান অবস্থান যাচাই না করেই শুভেচ্ছাপত্র পাঠাল?

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 26 November 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছর পূর্তির উদযাপন শেষ হতেই রাজভবনের মাথায় চাপল নতুন অস্বস্তি। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Governor CV Ananda Bose) নিজের কার্যকালের চার বছরে পা দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়ক— সকলকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই বিপত্তি।
সেই তালিকায় চলে গেল দু’টি চিঠি— একটির গন্তব্য তেহট্টের প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার নামে, অন্যটি বিধায়কপদ খারিজ হওয়া মুকুল রায়ের ঠিকানায়। দু’জনই আর বিধায়ক নন, একজন প্রয়াত, অন্যজন আদালতের রায়ে পদচ্যুত। ফলে চিঠি পৌঁছোতেই শুরু রাজনৈতিক জলঘোলা।
প্রশ্ন উঠছে— রাজ্যপালের দফতর কী ভাবে বিধানসভার সদস্যদের বর্তমান অবস্থান যাচাই না করেই শুভেচ্ছাপত্র পাঠাল? তাপস সাহার মৃত্যুর ছ’মাস এবং মুকুলের পদ খারিজের এক সপ্তাহ পেরোলেও তা কি অজানা ছিল রাজভবনের কাছে? বিধানসভার সচিবালয়ের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, সাংবিধানিক প্রধানের দফতরের পক্ষে এমন ত্রুটি অনভিপ্রেত। বিশেষত রাজভবন ও বিধানসভার মধ্যে নিয়মিত সাংবিধানিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও।
তৃণমূল পরিষদীয় দলেরও প্রশ্ন, দেশের রেলমন্ত্রীর আসনে বসা, রাজ্যের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে অন্যতম মুকুল রায়ের বিষয়ে যদি রাজভবনের কাছে খবর না থাকে, তা হলে কারা এই কাজ দেখছেন? মুকুল দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি। অন্যদিকে তাপস সাহার মৃত্যু নিয়ে শোকসভা পর্যন্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চিঠি পাঠানো নিয়ে অস্বস্তি আছড়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিতর্ক ছড়াতেই রাজ্যপালের ‘ওএসডি’ সন্দীপ রাজপুত জানান, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ভুল করে রাজ্যপালের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করেছেন। আগেও এমন হয়েছে। তদন্তে চিফ অফ স্টাফ এস কে পট্টনায়েকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।” ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
রাজভবন সূত্রের দাবি, বিষয়টি জানার পরেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজ্যপাল। মুর্শিদাবাদ সফর সেরে ফিরে এসেই তিনি এই বিষয়ে জবাবদিহি চেয়েছেন বলে খবর। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বার থেকে রাজ্যপালের স্বাক্ষরযুক্ত কোনও চিঠি ‘নির্দিষ্ট কমিটি’র অনুমোদন ছাড়া বাইরে যাবে না।