রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাকিমপুরের সীমান্ত চৌকি, বিএসএফ ক্যাম্প, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক—সবই রয়েছে রাজ্যপালের সূচিতে। সীমান্তবাসীদের সমস্যাও তিনি জানতে চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

শেষ আপডেট: 24 November 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক চলার মধ্যেই সরাসরি সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Governor CV Ananda Bose at the border in the infiltration debate)। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত পরিদর্শনে যাচ্ছেন তিনি। সেখানেই সীমান্ত-বাস্তবতার উপর নিজের মূল্যায়ন করবেন রাজ্যপাল। পরে রাতেই কৃষ্ণনগরে থাকবেন, মঙ্গলবার রওনা দেবেন মুর্শিদাবাদ জেলার আরও কিছু সীমান্ত এলাকায়।
সীমান্তে নানা গোষ্ঠীর মানুষের জমায়েত, অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং তার জেরে রাজনৈতিক তরজা—একাধিক ইস্যুতে রাজ্য উত্তাল। সেই আবহেই রাজ্যপালের এই সফরকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যাওয়ার আগে সোমবার তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “অনেক মানুষ সীমান্তে রয়েছে—এমন কথা শোনা গিয়েছে। এর থেকে নানা ধারণা, নানা ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে। তাই রিয়েলিটি চেক করতে নিজেই যাচ্ছি (reality check from Hakimpur to Murshidabad))।”
রাজ্যপালের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক শিবিরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবির যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ তুলে আসছে বাংলার শাসকের মদতেই অনুপ্রবেশ বাড়ছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা চরম শোচনীয়, সেখানে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, ইস্যুটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মাঝে দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি SIR প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও টানেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে BLO–দের উপর বাড়তি কাজের চাপ, অসুস্থতা এবং আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল বলেন, “SIR অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। BLO–দের সমস্যা থাকলে নির্বাচন কমিশনকে জানানো উচিত। নিশ্চয়ই গুরুত্বের সঙ্গে সব বিবেচনা করবে কমিশন। শেষটা আশা করি ভালই হবে।”
রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাকিমপুরের সীমান্ত চৌকি, বিএসএফ ক্যাম্প, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক—সবই রয়েছে রাজ্যপালের সূচিতে। সীমান্তবাসীদের সমস্যাও তিনি জানতে চাইবেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ, পাচার, চোরাচালান এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
এদিকে, তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন এবং বিএসএফ। স্থানীয় মহলে একাংশের মতে, রাজ্যপালের এই সফর কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের কথায়, বহুদিন ধরেই তাঁদের নানা সমস্যার কথা বড়মাপের কোনও প্রতিনিধি সরাসরি শোনেননি। তাই রাজ্যপালের আগমন নিয়ে তাঁদের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, যদি এই সফর বাস্তব সমস্যার দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি ফেরায়, তা হলে বহুদিনের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।