অভিযোগ—শহরের বর্জ্য অপসারণ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় নর্দমার জল উঠে আসছে ঘরবাড়ির সামনে। দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে উঠেছে, প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যের উপরও।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকদহ পুর এলাকার (Chakdaha Municipality) পরিষেবা নিয়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ অবশেষে পৌঁছল প্রশাসনিক টেবিলে। নাগরিক অভিযোগের ভিত্তিতে চাকদহ পুরসভার ২১ জন পুরপ্রতিনিধিকে শোকজ করল রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর (State Municipal and Urban Development Department)। সাত দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে নোটিস। ফলে অন্দরে চাপা অস্বস্তি ছড়িয়েছে পুরসভায়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে চাকদহের স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। তাদের অভিযোগ—শহরের বর্জ্য অপসারণ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। রাস্তার দুই ধারের আবর্জনা দিন দিন জমে পাহাড়ের মতো হয়ে উঠছে। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাটে জল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় নর্দমার জল উঠে আসছে ঘরবাড়ির সামনে। দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে উঠেছে, প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যের উপরও।
চাকদহের বেশ কিছু স্কুল এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একত্র হয়ে তৈরি করে একটি যৌথ অভিযোগপত্র। সেখানে বর্জ্য সমস্যার পাশাপাশি উল্লেখ করা হয় রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা, যাতায়াতে দীর্ঘ যানজট, আলো–অন্ধকারে বিপদের সম্ভাবনা এবং পুরসভার কার্যকারিতার ঘাটতির কথা। নাগরিক পরিষেবায় এই ব্যর্থতার অভিযোগ রাজ্যের পুর দফতরে জমা পড়তেই নড়েচড়ে বসে দফতর। তদন্তে উঠে আসে পরিষেবা–বিভ্রাটের নানা তথ্য। এর পরেই ২১ জন পুরপ্রতিনিধিকে পাঠানো হয় শোকজ নোটিস।
রাজ্য দফতরের এক কর্তা জানান, নাগরিক পরিষেবার মতো মৌলিক কাজে অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে জবাব না মিললে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
পুরসভার অন্দরে যদিও কেউ কেউ বলছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রভাব রয়েছে এই অভিযোগে। তবে অফিসিয়ালি পুরসভার তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়নি। চাকদহ পুরসভার সিআইসি মৌমিতা ভট্টাচার্যও স্বীকার করেছেন পরিষেবা–ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। তাঁর কথায়, “শোকজের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলার কারণেই পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটছে। খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা বাড়ছিল। বর্জ্য অপসারণের গাড়ি নিয়মিত না আসা, নিকাশির কাজ মাঝপথে থমকে থাকা, রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ না হওয়া—সব মিলিয়ে শহর কার্যত অচল। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে আবর্জনার স্তূপে কমছে ক্রেতা। বহু এলাকার বাসিন্দাদের কথায়, “উন্নয়ন হচ্ছে কাগজে–কলমে, মাঠে ঘাটে দেখা যাচ্ছে না! তাই বাধ্য হয়ে অভিযোগ করতে হয়েছে।”
অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারের সরাসরি পদক্ষেপ শহরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এখন দেখার, শোকজ নোটিসের পর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।