এই ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে মন্দারমণি-দিঘা উপকূলের পর্যটক নিরাপত্তা (Questions about safety)। অতীতে এমন মৃত্যু হয়েছে বারবার। তবুও কেন পর্যটক সুরক্ষায় কড়া নজরদারি বা নিয়ম মানা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না—এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিনের টানটান উদ্বেগ অবশেষে শোকে পরিণত হল। মন্দারমণির সমুদ্রে ( Mandarmani) তলিয়ে যাওয়া পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ অফিসারের ছেলে সুরজ বসুর দেহ সোমবার সকালে উঠে এল মৎস্যজীবীদের জালে (Police officer's son's body)। এক মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল পরিবারের আশা-আকাঙ্খা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোস্টাল থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালেই চার বন্ধুকে নিয়ে মন্দারমণিতে ঘুরতে আসেন ২৪ বছরের সুরজ। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। ভাতাড়ের রবীন্দ্রপল্লির ছেলে সুরজ—বাবা পুলিশ অফিসার, মা স্বাস্থ্যদফতরের কর্মী। ছুটির সপ্তাহান্তে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রস্নানের আনন্দে মাততেই সমুদ্রতটের একটি হোটেলে ঘর ভাড়া নেন তাঁরা। দুপুরের মধ্যেই চলে যান সমুদ্রে।
কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই মুছে দেয় উত্তাল সাগর। বন্ধুরা জানান, আচমকা উঁচু ঢেউ এসে সুরজকে টেনে নিয়ে যায় গভীর সমুদ্রে। ঘটনার আকস্মিকতায় কেউই কিছু বোঝার আগেই স্রোতের টানে আরও দূরে ভেসে যান তিনি। মুহূর্তেই ছড়ায় আতঙ্ক। খবর যায় কোস্টাল থানায়।
পুলিশ দ্রুত নামায় তল্লাশি দল। তবে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয় পরপর দু’দিন। পরিবারের সদস্যরাও পৌঁছে যান মন্দারমণি। অবশেষে সোমবার সকালে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মৎস্যজীবীদের জালে আটকে যায় একটি দেহ। উপরে তুলে তাঁরা দেখেন, সেটি সুরজ বসুর দেহ। খবর পেয়ে পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের পরেই দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে।
এই ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে মন্দারমণি-দিঘা উপকূলের পর্যটক নিরাপত্তা (Questions about safety)। অতীতে এমন মৃত্যু হয়েছে বারবার। তবুও কেন পর্যটক সুরক্ষায় কড়া নজরদারি বা নিয়ম মানা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না—এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু পর্যটক সতর্কবার্তা অমান্য করে অতিরিক্ত উৎসাহে উত্তাল ঢেউয়ের মুখোমুখি হন। আর সেই বেপরোয়া সিদ্ধান্তের মাশুল গুনতে হয় তাঁদের পরিবারকে।
তবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের দাবি, পুলিশ ও কোস্টাল ফোর্সের পক্ষ থেকে নিয়মিত সতর্ক করা হয়। নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু পর্যটকের সচেতনতা না বাড়লে বিপদ পুরোপুরি রোখা কঠিন।
সুরজের মৃত্যুর পর আবারও শোক, আতঙ্ক আর প্রশ্নে মোড়া হয়ে উঠেছে মন্দারমণির সমুদ্রতট। উত্তাল সাগরকে ঠেকানো যায় না, কিন্তু সমুদ্রে নামার সময় কি আর একটু সতর্কতা অবলম্বন করা যায় না!